অন্যায় ভাবে আলেমদের গ্রেফতার করে পবিত্র রমজানের রহমত ও শান্তির মাসকে অশান্ত করা হচ্ছে : আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১

অন্যায় ভাবে আলেমদের গ্রেফতার করে পবিত্র রমজানের রহমত ও শান্তির মাসকে অশান্ত করা হচ্ছে : আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব- জনকল্যাণ২৪

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়ার যুগ্ম-মহাসচিব, ঢাকা মহানগর সভাপতি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জামিয়া কাসিমিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, খতিবে বাঙ্গাল আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব আজ ১৬ এপ্রিল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। ২০১০ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের হামলা, ভাংচুর, বিশৃঙ্খলা ও জ্বালাও-পোড়াও এই জাতীয় কর্মকাণ্ড চালায় নাই। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাসে দেশব্যাপি সর্ববৃহৎ প্রোগ্রাম করেছে ৷

 

কেন্দ্রীয় ভাবে বিশাল লংমার্চ, এবং পরবর্তী ঢাকা অবরোধ৷ যা প্রতিহত করার জন্য বামপন্থী, রামপন্থী, কমিউনিষ্ট, নাস্তিক মুরতাদ ও ইসলাম বিরোধী সকলে মিলে হরতাল আহ্বান করেছিল। এবং সরকার প্রসাশনের পক্ষ থেকে সেই হরতালকে সমর্থন করে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। দেশপ্রেমিক ধর্মপ্রান মুসলমান অনেকেই তখন প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে লংমার্চে অংশগ্রহণ করেছিল।

 

রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে মুসলমানদের ঢাকায় আসতে বাধা প্রদান করা হয়েছে। যারফলে অসংখ্য লোকজন লংমার্চে এবং ঢাকা অবরোধে অংশগ্রহন করতে পারে নাই। তখন যে যেখানে আটকে পরেছে সেখানেই জমায়েত হয়েছে, জেলায় জেলায় সমাবেশ করেছে, মিছিল করেছে, কিন্তু কোথাও একটি রিক্সার গায়ে কেউ হাত দিয়েছে বলে প্রমান দিতে পারবে না৷ কোনো জায়গায় সামান্যতম কোনো বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর হেফাজতে ইসলাম করে নাই৷

 

তিনি আরো বলেন, অতঃপর ২০১৩ সালের ৫ই মে রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজতের নেতাকর্মীদের উপর বর্বরোচিত আক্রমণ করে শতশত আলেম উলামা এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শহীদ করা হয়। যা একাত্তরের ২৬শে মার্চের কালো রাত্রিকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরও হেফাজতে ইসলাম অত্যন্ত ধৈর্য এবং শৃঙ্খলার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। কোথাও কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়নি।

 

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলে আসছে। কিন্তু একটি গ্রুপ সব সময় হেফাজতের আন্দোলনে বাধা দিতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জ্বালাও-পোড়াও এবং ভয়ঙ্কর রকমের তাণ্ডব চালিয়ে অতপর সরকারের ছত্রছায়ায় তাদের সেই তাণ্ডবকে ‘হেফাজতের তাণ্ডব’ বলে প্রচার করে আসছে। এবং তারা ‘হেফাজতের তাণ্ডব’ ‘হেফাজতের তাণ্ডব’ বলে জনপ্রিয় সংগঠন হেফাজতের প্রতি মানুষের ঘৃণা সৃষ্টি করার গভীর পাঁয়তারা করছে। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম অত্যান্ত ধৈর্যের সাথে সেই পরিস্থিতির মোকাবেলা করে আসছে ৷

 

খতিবে বাঙ্গাল আরো বলেন, গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে গুজরাটের কসাই নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনকে হেফাজতে ইসলাম ঘৃণা করে প্রত্যাখ্যান করেছে। এবং সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে মোদিকে যেন বাংলাদেশে আনা না হয়। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শৃংখলার স্বার্থে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সেদিন কোনো কর্মসূচি ছিল না। এমনকি কোনো ইসলামী দল সেদিন কোনো কর্মসূচি দেয় নাই।

 

খতীবে বাঙ্গাল বলেন, ২৬শে মার্চ, স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু ধর্মপ্রান তাওহিদী জনতা, যারা মোদির আগমনকে মেনে নিতে পারে নাই, তারা বাইতুল মোকাররমে জুমার নামাজের পর মোদির আগমনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষনা দেয়। কিন্তু সে মিছিলকারী ধর্মপ্রান মুসলমানদের উপর অস্ত্রশস্ত্রসহ মসজিদের ভিতরেই আক্রমন চালায় এবং মসজিদের বাহিরেও আগে থেকে অবস্থানরত অস্ত্রসহ গুন্ডাবাহিনী মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। তারাই সেদিনের তাণ্ডবের মূল হোতা। এবং পরবর্তী ২৬, ২৭ ও ২৮ তারিখে বাংলাদেশে যা হয়েছে তার জন্য একমাত্র তারাই দায়ী। তারা কারা যারা আল্লাহর ঘর পবিত্র মসজিদকে অপবিত্র করেছে?

 

আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, অতপর বাইতুল মোকাররমের এই আক্রমণের চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে, তা সহ্য করতে না পেরে হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ধর্মপ্রাণ মুসলমান স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে। স্বতঃস্ফূর্ত সেই মানুষগুলোর উপর পাখির মতো গুলি চালিয়ে তাদের যেভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, তার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম ধর্মীয় ও মানবিক কারনে পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে। এবং হেফাজতের বিক্ষোভ ও হরতাল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃংখলভাবে পালিত হয়েছে।

 

বিবৃতিতে আল্লামা হাবীব আরো বলেন, সে দিন সরকারের ছত্রছায়ায় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ যারা বাইতুল মোকাররম, হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে তাণ্ডব চালিয়েছে তারাই বিভিন্ন জায়গায় আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আক্রমণ করে একে একে ১৯ জন ভাইকে শহীদ করেছে এবং অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করেছে। এই তাণ্ডব তারাই ঘটিয়েছে, তারাই তাণ্ডবের মুল হোতা।

 

আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব আরো বলেন, এতকিছুর পরও হেফাজতে ইসলাম দেশব্যাপী দোয়া দিবস ও একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করে সামনে আর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করে নাই। তার কারণ হলো, সামনে রমজান মাস, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস, এবাদত বন্দেগীর মাস। এই মাসে যেন মানুষের কোনো প্রকার অসুবিধা না হয় সে দিকে লক্ষ রেখে কোনো কর্মসূচি দেয় নাই।

 

কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের সাথে লক্ষকরছি হেফাজতে ইসলামের এই সরলতাকে দুর্বল ভেবে, বিভিন্ন জায়গায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে। ব্রাম্মণবাড়িয়াতে প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জসহ সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসের কোনো তোয়াক্কা করছেন না সরকার।

 

তিনি আরো বলেন, গত ১৪ এপ্রিল ইফতারের আগ মুহূর্তে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে তার বাসার সামনে থেকে নির্মমভাবে গ্রেফতার করেছে। তারাবীহের পর মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী সাহেবকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করছে ৷ এভাবে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সেক্রেটারি, মাদানীনগর মাদরাসার শাইখুল হাদীস মাওলানা বশিরুল্লাহ, হেফাজতের সহকারী অর্থ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াস হামিদী, হেফাজতের সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা শরীফুল্লাহ, নারায়নগঞ্জ হেফাজত নেতা সোনারগাঁও এর মাওলানা মহিউদ্দীন খান, মাওলানা শাহজাহান শিবলী, মাওলানা হাফেজ মোয়াজ্জম হোসেন, মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা ও মাওলানা ফখরুল ইসলামসহ আরো অনেক নেতাকর্মীকে সম্পুর্ণ অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে পবিত্র রমজান মাসে ভিতিকর অবস্থা সৃষ্টি করেছে এবং আতঙ্ক সৃষ্টিকরে রহমত ও শান্তির মাসকে চরম অশান্ত করে তুলেছে ৷

 

জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, হেফাজতে ইসলামের সরলতাকে দুর্বল ভাবলে ভুল হবে ৷ আমরা অনেক ধৈর্যশীল, ধৈর্য আরো ধরবো, তবে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে ৷ এই অবস্থা যদি সামনে আরো চলতে থাকে তাহলে হেফাজতে ইসলাম রমজান মাসেই কর্মসূচি দিয়ে রাজপতে নামতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ ৷

 

তিনি বলেন, যে সমস্ত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে অনতি বিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিন, অন্যথায় হেফাজতে ইসলাম নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করবে না, সর্বস্তরের মুসলিম জনতাকে সাথে নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হবে ৷

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ