দেশের বিভিন্ন স্থানে আলেমদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করুন ; লকডাউনের নামে মুসলমানদের এবাদতে বাঁধা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মেনে নিবে না : আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

দেশের বিভিন্ন স্থানে আলেমদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করুন ; লকডাউনের নামে মুসলমানদের এবাদতে বাঁধা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মেনে নিবে না : আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব- জনকল্যাণ২৪

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর সভাপতি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ সভাপতি, জামিয়া কাসিমিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, খতীবে বাঙ্গাল আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব দেশের বিভিন্ন স্থানে ওলামায়ে কেরাম এবং হেফাজত নেতৃবৃন্দের গ্রেফতার ও হয়রানি করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

 

তিনি আজ গনমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী একজন তরুণ আলেম, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ তাকে ভালোবাসেন। এমন একজন আলেমকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন অত্যান্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তরুন বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী শরীফুল্লাহ, মুফতী ইলয়াছ হামেদী, সোনারগাঁও এর মাওলানা মুহীউদ্দীন, মাওলানা হাফেজ মোয়াজ্জম, মাওলানা শাহজাহান শিবলী, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ উনারা সকলেই বাংলাদেশের অত্যান্ত জনপ্রিয় ব্যাক্তি৷ পবিত্র রমজান মাসে তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকায় এবাদত বন্দিগী এবং আমলের বহুমূখি প্রোগ্রাম ও কর্মসূচি ছিল। তাদেরকে গ্রেফতার করে প্লান ও প্রোগ্রাম নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। যা কোন ঈমানদার সহ্য করতে পারে না।

 

বিবৃতিতে আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন মাদ্রাসা মসজিদের আলেম-উলামা ও ইমামদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার খবর পাওয়া যাচ্ছে৷ এই মাত্র খবর পেলাম যে প্রবীণ আলেমে দ্বীন, হাজার হাজার আলেমের উস্তাদ শায়খুল হাদীস আল্লামা বসীরুল্লাহ সাহেব কে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে৷ রহমতের মাস রমজানের প্রথম রাত্রের তারাবীহর পরেই একজন বুজুর্গ আলেমকে এভাবে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া আল্লাহ সহ্য করবে না।

 

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আলেম উলামা, ধর্মপ্রান মুসলমান ও হেফাজত নেতা-কর্মিদের বিরোদ্ধে হামলা, মামলা, গ্রেফতার বন্ধ ও সকল গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। নিরপরাধ মানুষকে এভাবে গ্রেফতার ও হামলা মামলা বরদাশত করা হবে না। অন্যথায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ পবিত্র রমজান মাসে লকডাউনকে উপেক্ষা করে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে ৷

 

আল্লামা আল হাবীব বলেন, গত বছর রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ রোজাদার মুসলমানদেরকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ, তারাবীহ, জুমা ও ঈদ সহ কোন এবাদত সন্তুষ্টির সাথে করতে দেওয়া হয় নাই। এবছর মুসলমানদের হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা- মসজিদে নামাজ আদায় করবে এবং প্রানখুলে এবাদত করবে, কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি লকডাউনের নামে মসজিদে ২০ জন করে মুসল্লী নির্ধারিত করা হয়েছে। যা কোথাও কোন মুসলমান মেনে নেয় নাই এবং নিতে পারে না ৷ কোন কোন স্থানে অতি উৎসাহী স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় ক্যাডার সরকারী আদেশ বলে মানাতে গিয়ে প্রচন্ড বাধার সম্মুখীন হয়েছে এবং মুসল্লীদের প্রতিরোধে কোথাও টিকতে পারে নাই ৷

 

তিনি আরো বলেন যে পবিত্র মাহে রমযানে মুসলমানদের হৃদয় এবাদত-বন্দেগীর জন্য বেকুল, সরকারের উচিৎ তাদের জন্য সেই সুযোগটুকু সৃষ্টি করে দেয়া। অন্যথায় তাদের এই আহাজারী আমাদের দেশের জন্য আরো কঠিন পরিস্থিতি এনে দিবে।

 

তিনি বলেন, অতিসম্প্রতি দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে চলমান লকডাউনের মধ্যেও শিল্প-কারখানা চালু রাখা হয়েছে কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়া হয় নাই। ঠিক তেমনি এই অর্থনীতির সুফলভোগী মানুষের নিয়ন্ত্রণ যে সত্ত্বার হাতে রয়েছে, সেই সত্ত্বার দরবারে উপস্থিতি আমাদের জন্য আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ। অতএব কাল বিলম্ব না করে, সকল মসজিদ, মাদ্রাসা ও এবাদত খানা লকডাউনের আওতামুক্ত করে এবাদতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ