মিয়ানমারে ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করল সেনা সরকার- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২১

মিয়ানমারে ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করল সেনা সরকার- জনকল্যাণ২৪

জনকল্যাণ:-মিয়ানমারের জান্তা সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

 

সিএনএন জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যাতে বিক্ষোভকারীরা যোগাযোগ করতে না পারে তার অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে।

 

সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর এর প্রতিবাদে দেশটিজুড়ে প্রতিদিন রাস্তায় নামছে হাজারও মানুষ। এর মধ্যেই ইন্টারনেট পরিষেবায় লাগাম টানার মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আনতে চাচ্ছে সেনা সরকার।

 

এর আগে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার জন্য টেলিকম সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেয় পরিবহণ ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এরপর শুক্রবার সকাল থেকেই ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হয় মিয়ানমারের বেশির ভাগ নাগরিক। অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন দমনে এর আগে মোবাইল ডাটায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল জান্তা সরকার।

 

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রায় দুই মাসের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫৪৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তার মধ্যে ১৪১ জনই নিহত হয়েছেন গত শনিবার। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা দ্য অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) এ তথ্য জানিয়েছে।

 

শুক্রবার (২ এপ্রিল) মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনীতিবিদ, নির্বাচন কর্মকর্তা, সাংবাদিক, নেতাকর্মী এবং বিক্ষোভকারীসহ কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

 

এএপিপি জানায়, প্রায়ই রাতেই অভিযান চালিয়ে সাংবাদিক, বিক্ষোভকারী, সরকারি কর্মকর্তা, ট্রেড ইউনিয়নকর্মী, লেখক, ছাত্র, বেসামরিক নাগরিক এমনকি শিশুসহ অন্তত দুই হাজার ৭৫১ জনকে আটক করা করেছে।

 

মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থান করে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। একই সঙ্গে গ্রেফতার করে সু চিসহ তাঁর দলের শীর্ষ নেতাদের। সেনাবাহিনী মিয়ানমারে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ