জকিগঞ্জে মসজিদের ইমাম গ্রেফতার: পাওয়া যাচ্ছে ষড়যন্ত্রের গন্ধ – জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ১০:২১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২১

জকিগঞ্জে মসজিদের ইমাম গ্রেফতার: পাওয়া যাচ্ছে ষড়যন্ত্রের গন্ধ – জনকল্যাণ২৪

মীম সালমান:: সিলেটের জকিগঞ্জে “দরগা বাহারপুর” বড় মহল্লা জামে মসজিদের মক্তবে একটা ছেলেকে বেত্রাঘাত করার অপরাধে ছেলের বাবা থানায় মামলা করো! দিনের ভিতরেই গ্রেফতার করা হয় মসজিদের ইমামকে!! স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালেও তাতে কর্নপাত না করে তাৎক্ষণিক মামলা রেকর্ড করে ইমামকে আদালতে পাঠানো হয়। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক এমন পদক্ষেপ দেখে এলাকাবাসীর মনে দেখা দিয়েছে ভিন্ন প্রশ্ন-

 

 

এলাকাবাসীর অনেকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায় যে, মসজিদে ছোট ছোট বাচ্চারা মক্তবে গিয়ে অনেক দুষ্টুমি করে সেটা আমরা ও খেয়াল করি। তাদের এহেন দুষ্টুমি নিয়ন্ত্রণ করতে ইমাম সাহেব বিভিন্ন সময় বেত্রাঘাত করে থাকেন। চলমান সমস্যাটিও এইরকম। একটি ছেলে মসজিদে এসে অন্যদের সাথে দুষ্টুমি করার ফলে শাসনস্বরুপ ইমাম সাহেব কিছুটা অপ্রত্যাশীত বেত্রাঘাত করে ফেলেছেন যা কাম্য নয়। এরই জের ধরে ঐ ছেলের বাবা সাথে সাথে থানায় গিয়ে ইমাম ও মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে মামলা করে। কোন তদন্ত এবং মামলা কপি ছাড়াই মুহুর্তের মধ্যেই পুলিশ এসে আসামি গ্রেফতার করে! আবারও কোন যাচাই-বাছাই ছাড়া মামলাটি রেকর্ড ও করে নেয়! তাতে আমাদের আর বুঝার বাকি নেই যে, এখানে কতটুকু ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।

 

 

মহল্লাবাসী আরোও জানায় যে, আমাদের মসজিদ কমিটির একটি নিয়মরেখা আছে যে, মসজিদ ও মসজিদের ইমাম সঙ্ক্রান্ত বিষয়াদি কোন সমস্যা তৈরি হলে প্রথমে মসজিদ কমিটি বসে সমাধান করবে। কমিটির পক্ষে সম্ভব না হলে এলাকাবাসী বসে সমাধান করবে। এরকম আরোও অনেক নিয়মনীতি থাকা সত্বেও হঠাৎ করে সামান্য বেত্রাঘাতকে কেন্দ্র আমাদের কমিটির সঙ্গে কোন আলাপ না করেই থানা পর্যায়ে বিষয়টি চলে যায়! তাতে আমরা আরোও বেশি সংকিত।

 

স্থানীয় এক সাংবাদিকের সাথে বিষয়টি আলাপ করলে তিনি জানান যে, এখানের বিষয়টি সম্পুর্ণ উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। কারণ সাধারণ একজন লোক এতো হুট করে থানা পর্যায়ে চলে যায়! এবং তদন্ত ছাড়াই মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়ে যায়! ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের কোন অনুরোধ ও কাজে আসেনি! তাতে কি আর বুঝার কিছু আছে? সাংবাদিক আরোও বলেন, পুলিশ যখন আসামি গ্রেফতার করতে আসে, তখন আমি তাদেরকে মামলার কপি দেখাতে বললে তারা কোন কপি দেখাতে পারেনি! তাই সাথে সাথে আমি ভিক্টিম ছেলের বাবার সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের অনুরোধ জানালে তিনি সম্মতি দেন। কিন্তু একটু পরেই তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নেন।

 

স্থানীয় একজন সাবেক ইউপি সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এখানে বিষয়টি অনেক দিনের পূর্বপরিকল্পিত! মুলত ইমাম ও মসজিদের সভাপতির উপর কিছু লোকের ব্যক্তি আক্রোশ রয়েছে। তাই তারা চলমান বিষয়টি শক্ত হাতে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি ছেলের বাবাকে দিয়ে তারা ইমামকে লাঞ্ছিত করিয়েছে। থানায় মামলার পিছনে তারা বড় অংকের টাকা ও ব্যবহার করছে। তিনি আরোও বলেন যদি এটা পূর্বপরিকল্পিত না হতো তাহলে ছেলের বাবা সাধারণ একজন টমটম চালক হওয়া সত্বেও ইমামকে লাঞ্ছিত করার সাহস কোথায় থেকে পেলো? হুট করে থানায় মামলা করে তদন্ত ছাড়াই আসামিদের গ্রেফতার করানো কিভাবে সম্ভব হলো। পুলিশের হাত থেকে আসামি ছাড় করাতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের অনুরোধ কাজে না লাগার হেতু কি? নিশ্চয়ই এটা পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রোনোদিত। পাশাপাশি এই বিষয়টি ইস্যু বানিয়ে ছেলের বাবাকে ঢালস্বরূপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ