ভাষা শহীদদের স্মরণে কাতার জমিয়তের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

ভাষা শহীদদের স্মরণে কাতার জমিয়তের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত- জনকল্যাণ২৪

গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মাতৃভাষা বাংলার সম্মানে এবং ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কাতার’ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে জুম কন্ফারেন্সের মাধ্যমে এক আলোচনা সভা ও দোআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা জসীম উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুজিবুর রহমেন ও সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা উবায়দুল্লাহ নূরির যৌথ পরিচালনায় উক্ত আলচনা সভা ও দোআ মাহফিলে কাতার কেন্দ্রীয় জমিয়তের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বশীল গনের সাথে সাথে বিভিন্ন শাখা কমিটির প্রধান সারির নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

কেন্দ্রীয় সহ সধারণ সম্পাদক মাওলানা ফারিক আহমদের কালামে পাক হতে তেলাওয়াত এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কারী মাওলানা রায়হেন আল মাহমুদির ভাষা আন্দোলনের শহিদ স্মরণে সংঙ্গিত পরিবেশনের মাধ্যমে আলচনা শুরু হলে এতে মাতৃভাষার গুরুত্ব, বাংলাভাষার প্রতি আলেম সমাজের ভুমিকা, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে শহিদদের প্রতি গভির শ্রদ্ধা নিবেদন করে গুরুত্বপুর্ন আলচনা পেশ করেন- কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু আফিফা আতিকুর রাহমান, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ছফীর উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আজমাতুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা বদরুল ইসলেম, অর্থ সম্পাদক মাওলানা লুৎফুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা হাফেজ মাওলানা মিজানুররহমান খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাহফুজুর রহমান, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গির হুসাইন, কাতার জমিয়ত দুহা সিটি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইকরাম হুসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা আবুল ফজলসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বক্তাগন তাদের বক্তব্যে বলেন- প্রত্যেক নবি-রাসুলকে মহান আল্লাহ তাঁদের স্বগোত্রিয় ভাষায় প্রেরণ করার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক মানব জাতিকে বিশেষত মুসলিম সমাজকে মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ার বিষয়টিই শিক্ষা দিয়েছেন।

ইসলামের নবী মুহাম্মাদুর রাসুল (সাঃ) এর ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি শব্দ ও বাক্য উচ্চারণ এবং প্রয়োগের দিক দিয়ে বিশুদ্ধ আরবী হওয়া এবং তা আরবী ব্যাকরণের সর্বোচ্চ মানদন্ড হিসেবে যুগে যুগে ধর্তব্য হওয়ার বিষয়টি ওয়ারিসানে নবী তথা আলেম সমাজকে নিজ নিজ মাতৃভাষার পান্ডিত্য অর্জন করার প্রতি জোর নির্দেশ প্রদান করে।

অন্যদিকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসটি আমাদের বাংলাদেশের স্কুল, কলেজসহ প্রতিবছরের এই দিনেচর্চা হলে এখানে সম্পুন্ন এক সেটিয়া মুসলমানদেরই যে ত্যাগ ও অবদান তা কিন্তু পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। আবার এই ভাষা আন্দোলনের মূল স্প্রীট যে এ দেশের আলেম-উলামাদেরই তা সম্পুন্ন রুপে চেপে রাখা হচ্ছে।

মূলত তৎকালিক পুর্ব পাকিস্থানের আলেম সমাজের মাঝে নিজেদের আঞ্চলিক ভাষা তথা বাংলার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপই পাক সরকারের মাথায় উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা ঘোষণা করার ভুত চেপে বসায়। এ থেকেই শুরু হয় ভাষা আন্দোলনের সুচনা, এখান থেকেই বাংলার দামাল ছেলেরা নিজের মাতৃভাষার জন্য শহাদাত বরণের মূল স্প্রীট পায়।

সঠিক ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়- রাজনৈতিক ভাবে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা করার দাবিটি মূলত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামই উত্থাপন করে। ১৯৫২ সালের ১৮ ই মার্চ পাকিস্থান জমিয়তের কাউন্সিল অধিবেশনে গৃহিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যমত প্রস্তাব ছিল- ‘বাংলাকে পাকিস্থানের অন্যতম রাষ্ট্রীয় ভাষা রুপে গ্রহণ করা হোক’। এর আগে তৎকালিনের কোন রাজনৈতিক দল এমন প্রস্তাব বা দাবি করেনি, এমনকি আওয়ামী লীগও না।

বক্তাগণ বলেন- সাধিনতার পর হতেই প্রতিটি সরকার মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলনকে পুঁজি করে ক্ষমতা দখল আর নিজ নিজ দলের লোকদের পুর্ন সুযোগ সুবিদা দানের অপচেষ্ঠা করে আসতে দেখা গেলেও আজও আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনে শহীদ অনেকের পরিবারকে ভিক্ষার জুলি নিয়ে লোকালয়ে ঘুরতে শুনি। এটি আমরা ১৮ কুটি বাংলাদেশির জন্য চরম লজ্জার বিষয় ও মারাত্মক পিড়াদায়ক।

কাতার জমিয়ত কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্দোগে আন্তর্জাতিক ভাষা বদিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আজকের এই আলচনা সভা হতে বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাশীন সরকারের নিকট জোর দাবী জানাই যে, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার জন্য যারা শাহাদাত বরন করেছেন, যারা আহত/পঙ্গু হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের পরিবারের খুঁজ খবর নিয়ে আজীবনের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাবে তাদের আবাসন ও ভরন পোষনের যথাযত ব্যবস্থাগ্রহণ করার উদ্দোগ নেয়া হোক।

পরিশেষে সভাপতির সমাপনি বক্তব্য এবং ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং তাদের পরিবার পরিজনের মঙ্গল কামনা করে দোআর মাধ্যমে আলচনা সভা ও দোআ মাহফিলের পরিসমাপ্তি হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ