নাস্তিকদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই, আপস নেই: আল্লামা বাবুনগরী- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

নাস্তিকদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই, আপস নেই: আল্লামা বাবুনগরী- জনকল্যাণ২৪

জনকল্যাণ:-হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, আমাদের নবী সর্ব শ্রেষ্ঠ। আমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত। আমাদের সংবিধান কুরআন। যারা এসব বিশ্বাস করে তারা আস্তিক। আর যারা বিশ্বাস করে না তারা নাস্তিক। তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না। তাদের যুক্তি হলো আমরা আল্লাহকে দেখি না, তাই আল্লাহকে বিশ্বাস করি না। আমি প্রশ্ন করি, তোমরা আত্মাকে বিশ্বাস কর; অথচ তা দেখ না। তাহলে আত্মাকে বিশ্বাস করো কেন?

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া নূরিয়া ইসলামিয়া ভার্থখলার দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ইসলামী মহা সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নাস্তিকেরা কোন ধর্ম মানে না। এদেশে মুসলিমদের সাথে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টানরা থাকতে পারবে। কিন্তু নাস্তিকেরা থাকতে পারবে না। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবাই ধর্ম মানে। ঈদের নামাজে আমরা সবাই এক কাতারে শামিল হই। পরস্পরে পরস্পরের সাথে আত্মীয়তাও করি। কিন্তু নাস্তিকদের সাথে আমাদের আস্তিকদের কোন সম্পর্ক নেই, আপস নেই।

 

তিনি আরও বলেন, সারা জীবন হক কথা বলে যাবো। হক কথা বলতে গিয়ে যদি জেল-জুলুম আসে, ফাসিতেও যদি ঝুলতে হয়-তবুও সত্য কথা বলতে পিছপা হবো না।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ‌ইহুদী,খৃষ্টান ও নাস্তিকেরা বিশ্ব থেকে ইসলামের কালেমা নির্মূলের অপচেষ্টা করছে। তারা জানে না, এ বিশ্বে ইসলামই টিকে থাকবে। ইসলাম বিদ্বেষীরা নির্মূল হয়ে যাবে, যেভাবে ফেরাউন-নমরুদ নির্মূল হয়েছে।

হে‌ফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, সত্য কখনো দমে না। যত দমানোর চেষ্টা করা হয়, তত তা জ্বলসে উঠে। আবু জাহেল-আবু লাহাবরা সত্যকে ফুৎকারে নিভিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সত্যকে নিভাতে পারেনি। তারা জ্বলে ভষ্ম হয়েছে। আজ আলেমদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। যারাই এ চেষ্টা করছে, তারাও আবু জেহেল-আবু লাহাবের পরিণতি ভোগ করবে।

 

তিনি বলেন, কওমী মাদরাসাকে বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। এগুলো রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে বলে করোনার মধ্যেও কওমী মাদরাসা খুলে দিয়েছে। এসব মাদরাসায় কুরআন পড়া হচ্ছে বিধায় এ জাতিকে আল্লাহ করোনা মহামারির ভয়াবহ প্রকোপ থেকে রক্ষা করেছেন। কিন্তু নাস্তিক-মুর্তাদরা এই বাস্তবতা মানতে চায় না। এরা কুলাঙ্গার,মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিক হওয়ার যোগ্যতা তারা রাখে না।

 

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উপদেষ্টা ও জামেয়া ভার্থখলার প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা শায়খ মজদুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ও জামেয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইলয়াসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী দিনে আরও বক্তব্য রাখেন- হেফাজতের উপদেষ্টা ও আঙ্গুরা মোহাম্মদ পুর মাদ্রাসার মুহতামিম শায়খ মাওলানা জিয়া উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি মসজিদের খতীব ও হেফাজতের নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল ,যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ শফিক উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসিমী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ মুনতাসির আলী।

 

মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা হাবিবুল্লাহ বাহার,মাওলানা মুফতী শিহাব উদ্দিন চট্টগ্রাম, ডা. আবু তাওসীফ, অধ্যাপক মাওলানা আবদুস সবুর, জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার সিলেটের প্রিন্সিপাল মাওলানা সামিউর রহমান মুসা,মাওলানা নূরুল হক নবিগঞ্জী, রামধা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইউসুফ খাদিমানী,  নূরুল ক্বোরআন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আহমদ বিলাল, মাওলানা কারী সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন,মাওলানা মুখলিছুর রহমান ও মাওলানা আমজাদ হোসাইন প্রমূখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ