সমাজে আমূল পরিবর্তন আনতে প্রয়োজন রাষ্ট্র ও উলামায়ে কেরামের সমন্বয়; ইউএনও তাহমিলুর রহমান- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

সমাজে আমূল পরিবর্তন আনতে প্রয়োজন রাষ্ট্র ও উলামায়ে কেরামের সমন্বয়; ইউএনও তাহমিলুর রহমান- জনকল্যাণ২৪

আবু তালহা তোফায়েল :: বর্তমান সমাজের ব্যাধিগুলো হচ্ছে যুব সমাজ মাদকাসক্ত, খুন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, ইভটিজিং, অবাধ যৌনাচার, ঘুষ-সুদ ইত্যাদি। এগুলো না ইসলাম সাপোর্ট করে, না রাষ্ট্র সাপোর্ট করে। রাষ্ট্র প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে এগুলো রোধ করার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর আছে যেখানেই সমাজের ব্যাধি দেখবে, সেখানেই অভিযান চালাবে। কিন্তু এই ব্যাধিগুলো পুরোপুরি নির্মূল করতে পারছে না। দেশের উলামায়ে কেরামরাও যাগায় যাগায় মাহফিল করে ইসলামের শাশ্বত বিধানের দিকে মানুষকে আহ্বান করছে। মানুষ যদি ইসলামের এই সুগম পথে চলতে থাকে, তাহলে নিশ্চয় একটা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ উপহার দিতে পারবে। রাষ্ট্র ও উলামায়ে কেরামের টার্গেট একটাই যে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, সুন্দর সমাজ গঠন করা। কিন্তু যদি রাষ্ট্র ও উলামায়ে কেরাম সমন্বয় হয়ে কাজ করা যায়, তাহলে সমাজে আমূল পরিবর্তন আসবে, ব্যাধিগুলো দূর হয়ে যাবে; ইনশাআল্লাহ।

 

১৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টায় সিলেটের দারুসসালাম দারুল হাদিস লাফনাউট মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে- গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান উপরিউক্ত কথাগুলো বলেন।

 

ইউএনও তাহমিলুর রহমান আরও বলেন যে, আমি যেহেতু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত, ধর্মীয় শিক্ষার জ্ঞান নেই, তবু একটা হাদীসের অর্থ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি; “আল্লাহর রাসুল সা. বলেছেন, যখন কোনো অন্যায় দেখবে, তখন সাথে সাথে এর প্রতিবাদ করবে। আর যদি প্রতিবাদ করার সাধ্য না থাকে, তাহলে মন থেকে ঘৃণা করবে।” এখান থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করা। প্রতিবাদ কীভাবে করবো? যখন কোনো অন্যায় দেখবো, আমরা সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের কাছে সংবাদ দেবো, তাঁদের কাজে সহায়তা করবো। মফস্বল এলাকায় শালিসি সুষ্ঠু বিচার কার্য করতে পারলে ভালো, না পারলে আইনের আশ্রয় নেবো৷ নিজের থেকে কিছু করতে যাবো না। অপরাধীকে আইনের হাতে তুলে দেবো। তাতে আমাদের ঈমানী দিক থেকেও অন্যায়ের প্রতিবাদ হবে এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরও সহায়তা হবে।

 

তিনি তাঁর বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেন, আমি আমার কর্মস্থল তথা গোয়াইনঘাট উপজেলার সর্ববৃহৎ দ্বীনি এই মাহফিলে উপস্থিত হয়ে এবং আব্দুল খালিক শায়েখে চাক্তাসহ দেশের শীর্ষ মুরব্বি উলামায়ে কেরামদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। সারাদিন প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকি, দিনশেষে যখন এরকম সুন্দর পরিবেশে দ্বীনি মাহফিল দেখি এবং অংশগ্রহণ করি, তখন অনেক ভালো লাগে।
তিনি আরও বলেন, আমি যদিও সিলেট অঞ্চলের না। কিন্তু শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ বছর লেখাপড়া করেছি। সিলেট অঞ্চলের ব্যাপারে আমার ধারণা আছে। ধর্মপ্রাণ অঞ্চল এবং আলেম উলামা অধ্যুষিত এলাকা সিলেট। অনেক শান্তি প্রিয় এই এলাকা। নিজের কর্মস্থান সিলেট অঞ্চলে পড়ায় অনেক ভালোও লাগলো। তাই সিলেট অঞ্চলের ব্যাপারে আমার ধারণা আছে।

 

তিনি বলেন, আমি এই মাদ্রাসার কৃতি ছাত্র ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছের দাওয়াত পেয়ে এবং উনার তাগিদে মূলত এখানে আসা। মাদ্রাসার প্রতি তাঁর (কয়েছ-এর) যে অগাদ ভালোবাসা, আমি দেখে অবাক হয়েছি। ভাইস চেয়ারম্যান আমার সাথে মাদ্রাসার আশপাশে কোথাও আসলে মাদ্রাসায় একটু সময়ের জন্য হলেও নিয়ে আসেন।

 

উল্লেখ্য যে, ইউএনও তাহমিলুর রহমান শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সাধারণ শিক্ষা হোক অথবা ধর্মীয় শিক্ষা হোক- যেকোনো শিক্ষার প্রতি উনি উদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে মাদ্রাসার বাউন্ডারি করে দেওয়ার ওয়াদা করে শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।

 

বক্তব্য পরবর্তীতে ইউএনও তাহমিলুর রহমানের হাতে মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল উপলক্ষে বিশেষ প্রকাশনা ‘আলোকপাত’ তোলে দেন মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও গোয়াইনঘাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব সাহিত্যিক মুফতী আমিনুর রশিদ, মাদ্রাসার ফুজালা পরিষদের প্রচার সম্পাদক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ, আলোকপাত সম্পাদক আব্দুল্লাহ সালমান, সাংবাদিক আবু তালহা তোফায়েল প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ