ওয়াজ মাহফিলে বাধা; দেশ বিরোধী চক্রান্ত – আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ২:৩১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২১

ওয়াজ মাহফিলে বাধা; দেশ বিরোধী চক্রান্ত – আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব- জনকল্যাণ২৪

জনকল্যাণ:-  আন্তর্জাতিক মুফাসসিরে কোরআন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর হেফাজতের সংগ্রামী সভাপতি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, খতীবে বাঙ্গাল আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব গতকাল ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা স্কয়ার মাষ্টার বাড়িতে পুর্বনির্ধারিত ওয়াজ মাহফিলের সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ন করার পরেও অহেতুক বাধা প্রদান করেছেন স্থানীয় ভালুকা থানার ওসি।

 

এসময় তিনি মাহফিলে যাওয়ার জন্য মাওনা পর্যন্ত পৌঁছলে, খবর পেয়ে গাজীপুর শ্রীপুর ও ভালুকার উলামায়ে কেরামগণ স্থানীয় নুরজাহান হোটেলে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

 

সভায় তিনি বলেন, বর্তমান সময়টা বাংলাদেশের ওয়াজ মাহফিল, ইসলামী সম্মেলন ও বিভিন্ন মাদ্রাসা সমূহের ছালানা জলসার সময়। এ বছর অহেতুক বিনা কারনে বিভিন্ন স্থানে মাহফিলে বাধা এবং চলমান মাহফিলও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনে মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা ঈমান- ইসলাম ও দেশ বিরোধী একটি কুচক্রী মহল, জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান, নায়েবে নবী উলামায়ে কেরামের সাথে অন্যায় ও বিয়াদবী মূলক আচরন করে যাচ্ছেন। যা ৯৪% ধর্মপ্রান মুসলমানের দেশে চলতে পারে না। আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

 

আল্লামা আল হাবীব আরো বলেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলেম-উলামায়ে কেরামের সু-সম্পর্ক রয়েছে, উনারাও আলেমদেরকে যথেষ্ট সম্মান করেন। সরকার ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে কখনো উলামায়ে কেরামের ওয়াজে বাধা ও মাহফিল বন্ধের কোন নির্দেশ জারি করা হয় নাই।

 

জুনায়েদ আল হাবীব আরো বলেন, আমাদের এই দেশ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দেশ। এদেশের বড় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতি হলো ইসলামী সম্মেলন এবং ওয়াজ মাহফিল, যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। সুতরাং যারা এতে বাধা সৃষ্টি করে তাঁরা দেশ বিরোধী, ইসলাম বিরোধী ও সরকার বিরোধী এবং উলামায়ে কেরামকে সরকারের প্রতিপক্ষ বানিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করার গভীর ষড়যন্ত্র ।

 

তিনি বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এদেশে ওয়াজ মাহফিল ও ইসলামী সম্মেলন বন্ধ হতে পারবে না। যদি এ ধরনের অবস্থা সামনে চলতে থাকে এবং এদেশের উলামায়ে কেরামকে ইসলামের কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে এদেশের উলামায়ে কেরামও চুপ করে বসে থাকবে না । সকলে ঐক্যবদ্ধ পরামর্শের মাধ্যমে ধর্মপ্রান মুসলিম জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

 

উলামায়ে কেরামদের সাথে মতবিনিময়কালে আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব আরো বলেন, ধর্মপ্রান মুসলমানের স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মীয় কাজে অনুমতি লাগবে কেন? সাধারণ জনগণের কাছে দ্বীনের বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, কোরআন হাদিস এবং ইসলামী শরীয়ত অনুমতি দিয়েছেন! সুতরাং শত শত বৎসর যাবৎ যেমনিভাবে ওয়াজ মাহফিল, ইসলামী সম্মেলন এবং ধর্মীয় কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশে পরিচালিত হয়ে আসছে, তেমনি ভাবেই সকল দ্বীনি কার্যক্রম চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

 

মতবিনিময়কালে আরো উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম গাজীপুর জেলার সভাপতি মাওলানা মাসুদুল করিম সাহেব, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, মাওলানা মোখতার হোসাইন, মাওলানা মনিরুল ইসলাম গাজীপুরী, মাওলানা আব্দুল হালিম হোসাইনী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা বেলাল হোসাইন, মাওলানা নাঈম নুর, মাওলানা মামুন, মাওলানা মাহদী হাসান, মাওলানা হোসাইন আহমদ মাওলানা হারুনুর রশিদ মাওলানা মাহমুদ, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, মোহাম্মদ আলী, মোঃ নাঈম প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ