আমি কি স্বঘোষিত প্রার্থী, এতো অপমান: সেতুমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কাদের মির্জা- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২১

আমি কি স্বঘোষিত প্রার্থী, এতো অপমান: সেতুমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কাদের মির্জা- জনকল্যাণ২৪

জনকল্যাণ:- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভূয়সী প্রশংসা করার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই ফের তার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তিনি (ওবায়দুল কাদের) চাকরের সামনে বলেন, আমি নাকি স্বঘোষিত মেয়র প্রার্থী, আমি নাকি দলের কেউ না, আমি তার বলে (শক্তিতে) এগুলো করি।’

 

এ কথা বলে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন ছুড়েন, ‘আমি কি স্বঘোষিত প্রার্থী? এতো অপমান!’

 

১১ জানুয়ারী মঙ্গলবার সকালে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেট এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন আবদুল কাদের মির্জা।

 

এসময় নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বড় ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তিনি (ওবায়দুল কাদের) যে কথা বলেছেন, এটা দলের জন্য লজ্জার এবং ক্ষতিকর।’

 

বসুরহাট পৌরসভার এই মেয়রপ্রার্থী বলেন, ‘মির্জা কাদের তো আমার ভাই হিসেবে কথা বলেছে, ওবায়দুল কাদের সেটা না বলে দলের কথা বলেছেন। আমি ওবায়দুল কাদেরের ভাই হিসেবে কথা বলিনি।’

 

গতকাল সকালে নির্বাচনী পথসভায় বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের উন্নয়নমূলক কাজের ব্যাপক প্রশংসা করে আবদুল কাদের মির্জা বলেছিলেন, ‘নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, বসুরহাট, কবিরহাট উপজেলার এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।’

 

আজ তিনি বলেন, ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক বিএনপি সমর্থিত মেয়র হারুনুর রশীদ আজাদের সম্পর্ক ভালো। একরাম চৌধুরী ভোট বানচাল ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য বিএনপির সেই মেয়রকে টাকা দিয়ে কোম্পানীগঞ্জ পাঠিয়েছেন। একরাম চৌধুরী নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে আসলে হয় সকাল কিংবা সন্ধ্যায় আসবেন। সন্ধ্যায় এসে তার কাজ কী? আজ নির্বাচন কমিশনার কোম্পানীগঞ্জের সন্তান শাহাদাত হোসেনের এলাকায় আসার কথা, আসেন কি না দেখা যাক।’

 

আগামী পরশু বসুরহাট পৌর এলাকায় তার নির্বাচনী জনসমাবেশ হবে উল্লেখ করে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনা ও প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের কথা বলেছি, বলব। তারা ভালো মানুষ। ভোট ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। যাতে আমাদের দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এখানকার ২-৩ জন জনপ্রতিনিধি একরাম চৌধুরীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।’

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুব মহিলা লীগের পরিচয় দিয়ে যে নারী আমাকে মোবাইল ফোনে হুমকি, অপমান, অপদস্থ করেছেন, তার কোনো বিচার হয়নি। ডিসি, এসপি কোনো ব্যবস্থা নেননি।’

 

‘এখানকার ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় একটি মহল। কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরবাসী আগামী ১৬ জানুয়ারির দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি সাহস করে সত্য কথা বলেছি এবং বলব। আমি এ ভোটকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি’, যোগ করেন তিনি।

 

‘আমার পাশে বড় ভাই মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নেই, কেন্দ্রীয় নেতারা নেই, জেলা নেতারা নেই’ উল্লেখ করে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা আছেন তো? আমাকে ভালো লাগলে ভোট দেবেন। ভোট নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করবেন।’

 

‘নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও নির্বাচনে নিয়োজিত লোকজন যদি ভোট চুরি করে কিংবা অনিয়ম করে, তবে তা প্রতিহত করতে হবে। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। যারা মাদক সেবন করে, নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত এবং জুয়া খেলে তাদের বিচার করা হবে। তাদেরকে সোজা করা হবে’, বলেন তিনি।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই সহ-সভাপতি বলেন, ‘ধর্মীয় কাজ মানুষকে অপকর্ম থেকে বিরত রাখে। দলের বড় বড় নেতারা টেন্ডারবাজি করে, এটা কী ধরনের রাজনীতি?’

 

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেন, ‘তার মতো নেতা বিরল। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে শেখ হাসিনা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন।  প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ চাচা একজন ভালো মানুষ। তিনি বিরোধীদলে থাকতেও একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া ঘরে ঢুকে গেছেন। তারেক জিয়া একরাম চৌধুরী ও নিজাম হাজারীর মতোই।’

 

এসময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত খান, নূর নবী চৌধুরী ও আজম পাশা চৌধুরী রোমেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ