কমে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ থেকে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব: বাড়ছে বেহায়াপনা: মীম সালমান- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২১

কমে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ থেকে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব: বাড়ছে বেহায়াপনা: মীম সালমান- জনকল্যাণ২৪

ইলমে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা পবিত্র কোরআনুল কারিমের প্রথম নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট বাধা রক্ত থেকে। পড় তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি মহা মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।’ (সূরা: আল-আলাক-১-৫)।

 

একজন মুসলিম সন্তানের সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে তার ধর্মীয় শিক্ষাকে বুকে আকড়ে রাখা। মুসলিম সন্তানরা যদি তাদের জীবনের শুরুতে কোরান হাদীসের শিক্ষা বুকে ধারণ করে নিতে পারে, তাহলে পরবর্তীতে তারা যে কোন সেক্টরে গিয়ে শিক্ষার্জন করলেও তাদের ধর্মীয় মুল্যবোধকে তারা কখনো ভুলতে পারবেনা। যদি তারা তাদের বুকে কোরান সুন্নাহর শিক্ষা ধারণ করে সমাজের যে কোন উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে, তখন তাদের দ্বারা সমাজে আরও বেশি উপকার হবে। মানুষ খুজে পাবে সভ্যতার আলো। সে জন্য প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে ঘোষণা করেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। আর সেই জ্ঞান অর্জনই হলো ইলমে দ্বীনের শিক্ষা।

 

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি হচ্ছে একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। ঐতিহ্যগতভাবে এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু। তাই মুসলমনাদের সন্তানরা তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও সংস্কৃতিতে ইসলামকে জানা ও শেখার সুযোগ পাবে—এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশে চলমান শিক্ষা ব্যবস্থাটা হচ্ছে বৃটিশদের হাতেগড়া প্রণীত শিক্ষা ব্যবস্থা। উপমহাদেশে ব্রিটিশদের প্রণীত এই শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকলেও ভারতবর্ষের মুসলিম মনীষীদের ত্যাগের বিনিময় আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় বৃটিশরা কোন ফারাক ধরাতে পারেনি। যার ফলে যুগের পর যুগ ধরে আমাদের দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও ভার্সিটিতে ‘ইসলাম শিক্ষা’ও পাঠ করার ব্যবস্থা ছিল।

 

স্কুল-কলেজে ইসলাম শিক্ষা পড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে অনুকরণীয় মুসলমানের মতো জীবনযাপনের জন্য তৈরি করা হয়। অবাধ্য যৌবনের দুরন্তপনায় যেন নতুন প্রজন্ম অনাচার, অপরাধ ও মাদকের ছোবলে শেষ না হয়ে যায়, এ জন্যই প্রয়োজন ইসলাম শিক্ষা। এতে ইসলামের বিশ্বাস ও প্রায়োগিকতা এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ইবাদতের গুরুত্ব সম্পর্কিত বিষয় শিক্ষার্থী আত্মস্থ করতে পারে। ঈমান-আমল, ইবাদত ও আখলাকের সুস্পষ্ট ধারণা সহজ-সাধারণ সিলেবাসে শিক্ষা দিলে শিক্ষার্থী তার পরিবার, সমাজ ও জাতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে সহজেই ভালো-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে পারে। এতে শিক্ষার্থীর নৈতিক ভিত্তি দৃঢ় হয়।

 

কিন্তু বর্তমানে এই স্বতঃসিদ্ধ বিষয় ঐচ্ছিক করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ‘ইসলাম শিক্ষা’ সম্পর্কে সর্বসাধারণের ধারণা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। অনেকেই মনে করছে এটা আরবি ভাষা-সাহিত্যের মতো কিছু। কারো কারো কাছে ইসলাম শিক্ষা হয়তো ইসলামী ইতিহাসের মতো মুখস্থনির্ভর বিষয়। সে জন্য স্কুল-কলেজে ইসলামি শিক্ষায় দেখা দিয়েছে বিরাট ঘাটতি। এদিকে আগের মতো মক্তবকেন্দ্রিক ধর্মীয় শিক্ষার তেমন রেওয়াজ না থাকায় ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে মক্তব শিক্ষারও গুরুত্ব। ফলে মুসলিম সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ সর্বদিকে সীমিত হতে চলছে। যারা মনে করে ইসলামি শিক্ষা আরবি ভাষা-সাহিত্যগত কিছু। আসলে ইসলাম শিক্ষা এমন কিছুই নয়। বরং ইসলাম শিক্ষা হলো সহজে প্রকৃত ইসলাম বোঝার একটি অনন্য উপায় এবং আদর্শ মানুষ তথা মুসলমান হওয়ার মাধ্যম। ইসলাম শিক্ষা সাধারণ শিক্ষিত মানুষের জন্য দুনিয়ায় শান্তি ও পারলৌকিক মুক্তির পথ দেখায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ