জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা কাসেমী রহ. স্মরণে জামিয়া কাসিমিয়ায় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০২০

জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা কাসেমী রহ. স্মরণে জামিয়া কাসিমিয়ায় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল- জনকল্যাণ২৪

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, হাইয়্যাতুল উলায়ার কোন চেয়ারম্যান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, আপোষহীন সংগ্রামী জননেতা, বাংলার মাদানী, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রাহ.-এর স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে।

আজ ২০ ডিসেম্বর রবিবার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব প্রতিষ্ঠিত জামিয়া কাসিমিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় এই দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

দোয়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শীর্ষ ও দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম বলেন, হক ও ন্যায়-নীতির ওপর অটল-অবিচল একজন নিষ্ঠাবান আলেম ছিলেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ.। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাতেন তিনি। হকের উপর ছিলেন দৃঢ় মজবুত। বাতিলের সাথে কখনো আপোষ করেননি তিনি। তাঁর ইন্তেকালে ইসলামি অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবার নয়। ইতিহাস তাঁর অমর কীর্তি চিরকাল স্মরণ রাখবে।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের সভাপতি, আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, লোভ-লালসা ও ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকতেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ.। আমরণ তিনি এখলাছ ও নিষ্ঠার সাথে দ্বীনের বহুমুখী খেদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন। ইসলাম-মুসলমান, দেশ ও জাতির পক্ষে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.) বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।

এসময় অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ.-এর ইসলামি আন্দোলন সংগ্রামের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও ত্যাগ তিতিক্ষা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। আল্লামা কাসেমী (রাহ.) আত্মশুদ্ধির ময়দানেও ছিলেন একজন হক্কানী পীর। ইলমের ময়দানে তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেমেদ্বীন। রাজনীতির ময়দানে তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিজ্ঞ।

আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ. অনেক বছর অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা ও জামেয়া সুবহানিয়ার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদীসের গুরু দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। দীর্ঘদিন হাদীসের সর্বোচ্চ কিতাব বুখারী শরীফের পাঠদান করেছেন। হাজার হাজার মুহাদ্দীসীনরা তাঁর ছাত্র। সাবলীল উপস্থাপনা, মধুময় বাক্যশৈলী ও সর্ববোধগম্য দরস প্রদানে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ছিলেন একজন আদর্শ উস্তাদ।

মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ.-এর দরস-তাদরীস ও আত্মশুদ্ধির লাইনে মেহনতের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষায় ওয়াজ-নসিহতের ময়দানেও অসাধারণ খেদমত করে গেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, বেফাকুল মাদারীসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি এবং কওমি মাদরাসা সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল-হাইয়্যাতু উলইয়া বাংলাদেশের কো-চেয়ারম্যান। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.) তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনীতে দ্বীন ও ইসলামের বহুমুখী খেদমত করে গেছেন।

মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, বর্তমান এই নাজুক পরিস্থিতিতে দেশ ও জাতীর এই সংকটময় মুহূর্তে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.)এর মতো হক ও ন্যায়নীতির উপর অটল-অবিচল, নিষ্ঠাবান আলেম আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু আল্লাহ তায়া’লার হুকুমে আজ আমাদেরকে কাঁদিয়ে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ. এবং দেশের সর্বস্তরের মুসলমানের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, পীর সাহেব দেওনা, গাজীপুর, কাপাসিয়া।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব এর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী, আল্লামা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী, মাওলানা জাবের কাসেমী, মাওলানা কামাল উদ্দিন সালেহ, মাওলানা আব্দুল মালেক, মাওলানা নূরে আলম সিদ্দিকী, মাওলানা ফরিদ আহমেদ, মাওলানা মাহমুদ, মাওলানা আহমদ আল হাবীব প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ