বঙ্গবন্ধু কাপের ফাইন্যালে খুলনা,ম্যাচ সেরা মাশরাফি- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০২০

বঙ্গবন্ধু কাপের ফাইন্যালে খুলনা,ম্যাচ সেরা মাশরাফি- জনকল্যাণ২৪

ব্যাটিংয়ে বাহাদুরির পর বোলিংয়েও বুম বুম জেমকন খুলনা। আর ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে খুলনা পৌঁছে গেল বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে। খুলনার ২১০ রানের জবাবে টুর্নামেন্টের প্রথম কোয়ালিফায়ারে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের ইনিংস থামলো ১৬৩ রানে। ৪৭ রানের অনায়াস জয়ে খুলনা নাম লেখালো ফাইনালে।

বড় ব্যবধানে হারলেও চট্টগ্রামের সামনে এখনো ফাইনালে খেলার একটা শেষ সুযোগ থাকছে। মঙ্গলবার তারা দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বেক্সিমকো ঢাকার মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে জয়ী দল ১৮ ডিসেম্বর ফাইনালে লড়বে খুলনার বিরুদ্ধে।

সোমবার রাতের এই কোয়ালিফায়ারে ব্যাটিংয়ে খুলনার নায়ক ওপেনার জহুরুল ইসলাম। ৫১ বলে ৮০ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস আসে তার ব্যাট থেকে। আর বোলিংয়ে তারকা মাশরাফি বিন মর্তুজা। ৪ ওভারে ৩৫ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মাশরাফি। শুরুতে চট্টগ্রামের দুই ওপেনার। মাঝে বিপদজনক হয়ে উঠা মাহমুদুল হাসান জয় এবং শেষের দিকে নিজের শেষ ওভারে শামসুর রহমান ও মুস্তাফিজুর রহমানের উইকেট নিয়ে মাশরাফি তার পাঁচ উইকেট শিকার পুরো করেন। টুর্নামেন্টে এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট পাওয়ার দ্বিতীয় বোলার মাশরাফি। ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচে সেরা বোলিংয়ের শীর্ষে আছেন ঢাকার স্পিনার রবিউল ইসলাম রবি। মাশরাফির বোলিং বিশ্লেষণ দ্বিতীয় সেরা। টুর্নামেন্টে এটি মাশরাফির মাত্র তৃতীয় ম্যাচ।

টসে হেরে ব্যাট করতে নামা জেমকন খুলনা বড় স্কোরের ভিত্তি পায় দুই ওপেনারের ব্যাটে। জহুরুল ইসলাম ও জাকির হাসানের ওপেনিং জুটিতে যোগ হয় ৯.২ ওভারে ৭১ রান। জহুরুল শুরু থেকে মারকাটারি ভঙ্গির ইনিংস খেলেন। দলের রান যখন ৬৯ তখন জহুরুলের নামের পাশে রান ৫১! যেভাবে খেলছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরি বোধকরি হয়েই যাচ্ছে। ৪ ছক্কা ও ৫ বাউন্ডারিতে মাত্র ৫১ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ফিরলেন জহুরুল। ইমরুল কায়েস টিকলেন মাত্র ১২ রান। তবে রান করলেন ২৫। স্ট্রাইকরেট দুশোর ওপরে! স্ট্রাইকরেটের বিচারে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাত্র ৯ বলে ৩ ছক্কা ও ২ বাউন্ডারিতে মাহমুদউল্লাহ করেন ৩০ রান। স্ট্রাইকরেট তিনশ’র বেশি! টুর্নামেন্টে সাকিব আল হাসান এই প্রথম বলার মতো কিছু রান পেলেন। ১৫ বলে সাকিব করেন ২৮ রান।

শেষের পাঁচ ওভারে খুলনার স্কোরকার্ডে জমা হয় ৭৭ রান। শুরু ও শেষের ব্যাটিং ঝড়ে খুলনা জমা করে ২১০ রান।

চট্টগ্রামের শুরুটা ভাল হয়নি। মাশরাফির প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকার ফিরেন কোন রান না করেই। ফর্মে থাকা লিটন দাসকেও স্লোয়ারে বোল্ড করেন মাশরাফি। মাহমুদল হাসান জয় ও মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিল চট্টগ্রাম। মাশরাফি তার দ্বিতীয় স্পেলে সেই জুটি ভাঙ্গলেন। মাহমুদুল হাসান জয় ২৭ বলে ৩১ রান করে ফিরেন। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিথুন ৩৫ বলে ৫৩ রান করে আরিফুলের স্ট্যাম্প বরাবর বলে লাইন মিস করে বোল্ড হন।

চট্টগ্রামের ইনিংসের শেষের অংশ শুধু সংগ্রামের। টিকে থাকার সংগ্রামের। নুয়ে পড়া চট্টগ্রামের ইনিংস ছেঁটে ফেলেন মাশরাফি তার শেষ ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে। হলেন ম্যাচ সেরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জেমকন খুলনা: ২১০/৭ (২০ ওভারে, জহুরুল ৮০, ইমরুল কায়েস ২৫, সাকিব ২৮, মাহমুদউল্লাহ ৩০, আরিফুল ১৫, মুস্তাফিজুর ২/৩১)।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম: ১৬৩/১০ (১৯.৪ ওভারে, লিটন ২৪, মিথুন ৫৩, মাহমুদুল হাসান জয় ৩১, মাশরাফি ৫/৩৫, হাসান মাহমুদ ২/৩৫, আরিফুল ২/২৬)।

ফল: খুলনা ৪৭ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: মাশরাফি বিন মর্তুজা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ