এএসপির মৃত্যুতে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সুবিচারের ব্যবস্থা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ১২:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২০

এএসপির মৃত্যুতে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সুবিচারের ব্যবস্থা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-জনকল্যাণ২৪

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপনের মৃত্যুর ঘটনায় যারা দোষী সাব্যস্ত হবে সবাইকে আইনের আওতায় এনে সুবিচারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বুধবার (১১ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

 

সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরের দিকে চিকিৎসার জন্য তাকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালটিতে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই কর্মচারীদের ধস্তাধস্তি ও মারধরে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের অ্যাগ্রেসিভ ম্যানেজমেন্ট রুমে তাকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মাইন্ড এইড হাসপাতাল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আটজনসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে তদন্তের পর আরও যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে সুবিচারের ব্যবস্থা করা হবে।

 

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তারা কীভাবে এই হাসপাতাল চালাচ্ছিল! আমি নিশ্চিত নই- এই হাসপাতালের অনুমোদন যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষ থেকে নেয়নি, তদন্তের পরই আমরা কথা বলতে পারব। যেটাই হোক তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আমরা জানতে পারব, ঘটনাটা কী হয়েছিল। আমরা এখনও অনেক কিছু শুনছি অনেক খবর আমাদের কাছে আছে। চিকিৎসার নামে যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা তদন্তের রিপোর্ট আসলে আমরা পরিষ্কার বলতে পারব।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোভিডকালীন ও পরবর্তীতে অরাজকতা নিয়ে অভিযান চলমান ছিল কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি নোটিশ জারি করে যে তাদের অনুমতি ব্যতীত কোন অভিযান পরিচালনা করা যাবে না বা তাদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালাতে হবে। এরপর থেকে আপনাদের অভিযান বন্ধ আছে। এখন আপনারা নতুন করে এককভাবে অভিযান পরিচালনা করবেন কি না বা অভিযান নিয়ে সর্বশেষ আপডেট জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতাল অনুমোদিত না হলে আইনে কী হয় সেগুলো আপনারা সবাই জানেন। অননুমোদিত হাসপাতাল যেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলো আইডেন্টিটফাই করে ধরার চেষ্টা করছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে, সেটা হলো যখনই কোনো হাসপাতালের অনিয়ম সম্বন্ধে জানতে পারবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানাবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এ অভিযান চালানোর কথা। আমি মনে করি এতে কোনো অসুবিধা হবে না। অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না।’

‘আমরা (হাসপাতালের অনিয়ম সম্পর্কে) জানার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একজন যোগ্য প্রতিনিধি নিয়ে অভিযানটা চালাবো, এ ধরনের নির্দেশনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসছে। আমি মনে করি, আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে অভিযানগুলো চলবে এই আদেশের বলে।’

মাঝখানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাসপাতালে ভিজিট বন্ধ ছিল এখন এটা নতুন করে শুরু করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যখনই কোনো অভিযানে যাবে তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানিয়ে তাদের একজনকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আমরা সে কাজটিই করছি। এখানে তারা কোনো বাধা দেয়নি। তারা বলেনি তোমরা যেওনা। তারা বলেছে যাওয়ার সময় আমাদের একটু জানিয়ে যাও।’

এখন তো কোন অভিযান দেখছি না, তাহলে কি গোয়েন্দারা কোন তথ্য দিচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যখনই তথ্য পাচ্ছি তখনই যাচ্ছে। আর যখন স্বাস্থ্য বিভাগ বলবে হাসপাতালে অনিয়ম হচ্ছে তখন আমরা যাবো। আর আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যদি কোন তথ্য পায় তখন আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানাবো। তখন নিরাপত্তাবাহিনী আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবে।’

এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে অভিযান কতটুকু ভালো হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি একটা সিস্টেমেটিক ওয়েতে যাওয়া হচ্ছে।’

অনিয়ম করা মাদক নিরাময় হাসপাতালগুলোতে অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা চিকিৎসায় যদি অনিয়ম করে, ডাক্তার নেই, চিকিৎসা চালাচ্ছে, কোন যন্ত্রপাতি নেই, সুযোগ সুবিধা নেই চিকিৎসা চালাচ্ছে- এই ধরনের হলে সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থাও আমরা করছি।’

র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে বদলি করার নেপথ্যে কোনো কারণ আছে কি-না, জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘নেপথ্যে কোনো কারণ নেই। সরকারি কর্মকর্তা এই দেখেন আমার পিআরও আজকে এখানে আছেন, কালকে উনি অন্যখানে চলে যেতে পারেন, এটাই নিয়ম। আমাদের সেক্রেটারি (সচিব) সাহেবরা বদলি হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের জয়েন্ট সেক্রেটারিরা প্রমোশন পেয়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। এটাই সরকারি নিয়ম।

সারোয়ার আলম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব অনেকদিন ধরে ওখানে ছিলেন। তিনি হয়তো আরও ভালো জায়গায় যাবেন, ভালো জায়গার জন্য অন্য জায়গায় সরবেন, তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ