সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে উত্তাল নেত্রকোণা- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৮:১২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২০

সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে উত্তাল নেত্রকোণা- জনকল্যাণ২৪

তোফায়েল আহমদ রাফি:কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু বাড়ি-ঘরে আগুন, লালমনিরহাটের বুড়িমারিতে একজন ধর্মপ্রাণ মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ দেশজুড়ে সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনায় আট দফা দাবিতে নেত্রকোণায় মানববন্ধন, অবস্থান, সমাবেশ হয়েছে।

আজ(৭নভেম্বর) শনিবার সকাল ১১টা থেকে ১২ টা নাগাদ শহরের ব্যস্ততম এলাকা তেরীবাজার মোড়ে এই কর্মসূচি পালন করে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

পরিষদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ধর্ম অবমাননার জিগির তুলে দিনাজপুর, পার্বতীপুর ও কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু এলাকায় আক্রমণ-অগ্নিসংযোগ নারী নির্যাতন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের অপপ্রয়াসের প্রতিবাদে ও গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে, অধ্যাপক কুশল চক্রবর্তীকে হত্যার হুমকি, ধর্মপ্রাণ শহিদুন্নবী জুয়েলকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং সংখ্যালঘুর সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন।

 

মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সিতাংশু বিকাশ আচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক, সুব্রতা সাহা রায়, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মঙ্গল সাহা, সাবেক সভাপতি নির্মল দাস, অধ্যাপক মানিক রায়, লিটন পন্ডিতসহ অন্যরা।

সিতাংশু বিকাশ আচার্য্য বলেন, দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। বাড়ি-ঘরে আগুন দিচ্ছে। সংখ্যালঘু মেয়েদের ধর্ষণ করছে। জমি দখল করে নিচ্ছে। ধর্ম অবমাননার মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে নিপীড়ন চালাচ্ছে। এসব অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এসব বন্ধে সরকারের প্রতি কঠোর দৃশ্যমান পদক্ষেপ চেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে দেশ চালাতে হবে।

বক্তব্য দেয়ার সময় বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচ ও গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর সাত মাসের ‘সাম্প্রদায়িক চালচিত্র’তুলে ধরে সিতাংশু বিকাশ বলেন,এই সময়ে দেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ১৭ জন হত্যা, ১০ জন হত্যাচেষ্টার, ১১ জনকে হত্যার হুমকির, ৩০ জন ধর্ষণ-গণধর্ষণ ও নির্যাতন, ছয় জন ধর্ষণচেষ্টা, তিনজন শ্লীলতাহানির কারণে আত্মহত্যা, ২৩ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন।পাশাপাশি ২৭টি প্রতিমা ভাঙচুর, ২৩টি মন্দিরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, ২৬টি বসতবাড়ি, জমি ও শ্মশান উচ্ছেদের ঘটনা, পাঁচটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখলের ঘটনা, ৭৩টি উচ্ছেদ চেষ্টা, ৩৪ জনকে দেশত্যাগের হুমকি, ৬০টি পরিবারকে গ্রামছাড়া করা, চারজনকে ধর্মান্তরিত হতে হুমকি, সাতজনকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ, ৮৮টি বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট, ২৪৭ জনকে দৈহিক হামলা, ২০টি পরিবারকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ বিতরণকালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানানো এবং মহানবীকে কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।অন্যদিকে ফেইসবুক আইডি হ্যাক করে ভুয়া পোস্ট দিয়ে ধর্ম অবমাননার জিগির তুলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও কুমিল্লার মুরাদনগুরে সংখ্যালঘু এলাকায় আক্রমণ অগ্নিসংযোগ নারী নির্যাতন ও ভিকটিমদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।”২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ধর্ম অবমাননার কথিত দায়ে ছয়জন ছাত্রের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজনের সন্ধান মিলছে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুলশ বরণ চক্রবর্তীকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ