মুহাররমের শিক্ষা,আমল ও ফজিলত: আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব – জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২০

মুহাররমের শিক্ষা,আমল ও ফজিলত: আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব – জনকল্যাণ২৪

হিজরী সনের প্রথম মাস মুহাররম। মুহাররম শব্দের অর্থ হলো হারাম, নিষিদ্ধ ও পবিত্র। মুহাররম মাসসহ আরো তিনটি মাস গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদা সম্পন্ন মাস। আরবি বারো মাসের মধ্যে মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এ চারটি মাস হলো, ১ মুহাররম, ২. রজব, ৩. যিলকদ, ৪. যিলহজ।

মুহাররম মাসের আমলের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘হযরত রাসূল (সা) মদিনায় এসে দেখেন যে, ইহুদীরা আশুরার দিনে রোজা পালন করে। তিনি তাদেরকে বলেন, এ দিনটির বিষয়ে কি যে তোমরা এ দিনে রোজা পালন কর? তারা বলল, এটি একটি মহান দিন। এ দিনে আল্লাহ তায়ালা মূসা (আ) ও তার জাতিকে পরিত্রাণ দান করেন এবং ফেরাউন ও তার জাতিকে নিমজ্জিত করেন। এ জন্য হযরত মূসা (আ) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এ দিন রোজা পালন করেন। তাই আমরা এ দিন রোজা পালন করি। তখন হযরত রাসূল (সা) বলেন, হযরত মূসা (আ) এর বিষয়ে আমাদের অধিকার বেশি। এরপর তিনি এ দিন রোজা পালন করেন এবং রোজা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করনে।’ (মুসলিম:২৭১৪)।

সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। (সহিহ মুসলিম ১/৩৫৮)

তাই এর পূর্ণ অনুসরণ ও আনুগত্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে উম্মতের কল্যাণ। আবু কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়। ’ (মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘জাহিলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা পালন করতো। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সে কালে রোজা পালন করতেন। মদিনায় এসেও তিনি রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দিলেন।

প্রকৃত সুন্নাত হলো, আগের ৯ মহররম বা পরের দিনের সঙ্গে ১১ মহররম মিলিয়ে আগে পরে মোট ২ দিন রোজা রাখা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, তোমরা মহররমের নবম ও দশম দিবসে রোজা রাখ। (তিরমিজি ৭৫৫)

এ মাসে মহানবী (সা) এর দৌহিত্র হযরত হোসাইন (রা) ও তার সঙ্গী সাথীদের বর্বরোচিতভাবে শহীদ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহাররম তথা কারবালা বা আশুরার ইতিহাস নতুনভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এ মাসে আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। মুহাররম মাসে আল্লাহতায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। মুহাররম মাসেই হযরত আদম (আ) ও হযরত হাওয়া (আ) নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন।

আল্লাহতায়ালা এ মাসে হযরত আদম (আ) ও হযরত হাওয়া (আ) এর তওবা কবুল করেছিলেন। হযরত ইউনুছ (আ) চল্লিশ দিন মাছের পেটে থাকার পর মুক্তি পেয়েছিলেন। হযরত ইয়াকুব (আ) তার প্রিয় পুত্র হযরত ইউসূফ (আ) এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। হযরত সোলায়মান (আ) হারানো রাজত্ব ফিরে পেয়েছিলেন। হযরত নুহ (আ) মহাপ্লাবন থেকে বাঁচতে বিশাল আকারের কিস্তি তৈরী করেছিলেন। হযরত ইব্রাহিম (আ) কে নমরূদের আগুন থেকে রক্ষা করেছিলেন। হযরত আইয়ুব (আ) কুষ্ঠু রোগ মুক্ত হয়েছিলেন। ফেরাউন দলবলসহ নীল নদে ডুবে নিহত হয়েছিল।

এ মাসের আমল গুলো করার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই আমাদের পূর্বেকার পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। তাই আমাদেরকে বেশি বেশি নফল রোজা, নফল নামাজ ও তাসবিহ তাহলিল পাঠ করতে হবে। মুহাররম উপলক্ষে হায় হোসেন, হায় হোসেন বলে কান্নাকাটি করা, বুক চাপড়ানো, ব্লেড বা ছুড়ি দিয়ে আঘাত করা, নিজের শরীর থেকে চাবুক মেরে রক্ত বাহির করা, ইত্যাদি শরীয়ত বিরোধী কার্যক্রম করে বিরত থেকে, আসুন আমরা সকলেই মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার লক্ষ্যে, কুরআন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন যাপন করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে আমল করার তৌফিক দান করুক! আমীন।

লেখক : আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব
আন্তর্জাতিক মুফাসসিরে কোরআন ও মুহতামিম, জামিয়া কাসেমিয়া আশরাফুল উলুম ঢাকা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ