ঈদের নামাজ ঈদগাহেই আদায় করা জরুরি: আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

ঈদের নামাজ ঈদগাহেই আদায় করা জরুরি: আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব- জনকল্যাণ২৪

জামিয়া কাসিমিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব খতিবে বাঙ্গাল আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব দা:বা: এক বিবৃতিতে বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে, করোনাভাইরাসের কারণে ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ করে এবং মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ আদায় করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। অথচ বর্তমানে আমাদের সরকার সহ পৃথিবীর বড় বড় রাষ্ট্র গুলি এই করোনা ভাইরাসের মোকাবেলা করার কথা বলেছে কিন্তু তারা মোকাবেলা করতে অক্ষম হয়েছে। সুতরাং এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা এবং আল্লাহর হুকুম যথাযথ পালন করা ছাড়া দ্বিতীয় আর কোনো উপায় নেই।

খতীবে বাঙ্গাল আরো বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে গরুর হাট, অফিস আদালত সহ সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোথাও স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না, প্রত্যেকটি সেক্টরে মানুষের অবাধ চলাফেরা দিন দিন বেড়েই চলছে। অথচ এখনো পর্যন্ত আল্লাহর ঘর মসজিদে মুসলমানদের এবাদতের মধ্যে তিন ফিট দূরে দূরে দাঁড়ানো সুন্নাত পরিপন্থী মাকরুহে-তাহরিমী একটি কাজকে চলমান রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলমানদের জন্য বছরে দুইটি ঈদ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেদিন আনন্দের সাথে ধনী, গরীব, কৃষক, শ্রমিক, সকল শ্রেনীর মুসলমান একত্রিত হয়ে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবে। তাদের আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে ঈদগাহ ময়দান মুখরিত হয়ে উঠবে। এইগুলো শে’আরে ইসলাম ইসলামের সৌন্দর্য, রাসুলের তরিকা, যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় গতো ঈদুল ফিতরে সরকারের পক্ষ থেকে ঈদগাহে ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ করায় এবং মসজিদ গুলোতে ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ানোর কারনে অনেক মুসলমান ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেনি, মসজিদ গুলোতে দুই, তিন জামাত করেও সকল মুসল্লিদের জায়গা দিতে পারে নাই।

তিনি আরো বলেন, আমরা পূর্বে দেখেছি ঈদের নামাজের সময় ঈদগাহ গুলো কানায় কানায় ভরে আশেপাশের রাস্তায়ও মুসল্লিরা কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করে। সুতরাং ঈদগাহ গুলো বন্ধ করে শুধু মসজিদে এতো সংখ্যক মানুষের জায়গা হবে না। যা গত ঈদে আমরা লক্ষ করছি।

এই জন্য সরকারকে আহ্বান করছি ঈদগাহ গুলো ঈদের নামাজের জন্য উম্মুক্ত করে দিন। এবং মসজিদ মাদরাসা সহ সকল ধর্মীয় জায়গা থেকে বিধি নিষেধ উঠিয়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট তাওবা করতে হবে, এবং আল্লাহর রহমত কামনা করতে হবে। তাহলে আমরা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবো ইনশাআল্লাহ।

বিবৃতিতে তিনি বর্তমান দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং মন্ত্রী-এমপি সহ রাজনৈতিক নেতারা বার বার বন্যা মোকাবেলা করার ঘোষণা দিচ্ছেন। এবং আমরা লক্ষ করেছি করোনা পরিস্থিতি নিয়েও সরকার এবং তার এমপি মন্ত্রীরা ব্যাপকভাবে “আমরা করোনা মোকাবেলা করবো” এই ধরনের কথা বলতেছেন।

খতিবে বাঙ্গাল বলেন, বন্যা এবং মহামারী এগুলো আল্লাহ প্রদত্ত আসমানী মুসিবত সুতরাং এগুলোর সাথে মোকাবেলা করার শক্তি পৃথিবীর কারো নেই। আসমানী বালা-মুসিবত আসমানের মালিককে খুশি করার মাধ্যমেই দূর হবে। সুতরাং আমাদের সমাজে এখন ব্যাপক প্রচলিত এই “মোকাবেলা” শব্দটি পরিহার করতে হবে।

তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদেরকে বেশি বেশি তাওবা ইস্তেগফার করতে হবে, এবং আল্লাহর দিকে রুজু হতে হবে, আল্লাহর হুকুম যথাযথ পালন করতে হবে। এবং যার যার সাধ্য অনুযায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ