মজলুমের বদদোয়া থেকে সাবধান! ওয়ালী উল্লাহ আরমান- জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

মজলুমের বদদোয়া থেকে সাবধান! ওয়ালী উল্লাহ আরমান- জনকল্যাণ২৪

জুলুম, বাড়াবাড়ি এবং সীমালংঘন গর্হিত অপরাধ। সে কারণে কুরআনে কারীমের একাধিক জায়গায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানবজাতিকে এগুলো থেকে বেঁচে থাকার কথা বলেছেন। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলুমের বদদোয়া থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক করেছেন।
কিন্তু তিক্ত বাস্তবতা হচ্ছে, মহান আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় হাবিবের কঠোর সতর্কবাণী সত্ত্বেও সমাজের উঁচু, নিচু এবং মাঝারি সর্বত্র মহামারীরূপে জুলুম ও সীমালঙ্ঘন বিদ্যমান। বিশেষত আমাদের অঙ্গনে এগুলো সর্বগ্রাসী প্লাবনের মতো ছড়িয়ে পড়ার পর খোদায়ী গজব নেমে আসাটা অবধারিত ছিলো। প্রশ্ন ছিলো, তা কবে আসবে? প্রতীক্ষার প্রহর দীর্ঘ না হতেই তা অকস্মাৎ এসে পড়েছে।

অবর্ণনীয় জুলুমের শিকার অনেকে মুখ খুলে পুনরায় বিপদে পড়েছে, অনেক মজলুম মুখ খুলতে না পেরে দম বন্ধ করে বসে আছে, অনেকে নীরবে-নিভৃতে আল্লাহর কাছে চোখের অশ্রু ঝরিয়েছে।

একই ঘরানা, ভাবধারা ও অঙ্গনের লোক সত্যোচ্চারণ বা ভিন্নমত পোষণের কারণে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ‘জঙ্গি’ ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সহযোগী’ ‘উগ্রবাদী’ ও ‘সরকারবিরোধী’ নানা বিপজ্জনক, স্পর্শকাতর ও মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।

প্রথম যুগ সহ পূর্ব যুগের ওলামায়ে কেরাম যেখানে ক্ষমতা এবং ক্ষমতাসীনদের অলিগলি-চৌহদ্দি, হুমকি-ধামকি, চোখরাঙানি ও প্রলোভন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ এই যুগে তাদেরই ‘নির্ভেজাল উত্তরসূরী’ দাবিদারদের কেউ কেউ সীমিত ক্ষমতার সর্বোচ্চ অপব্যবহার অথবা ক্ষমতাসীনদের মদদে যেভাবে জুলুমের পাহাড় গড়ে তুলেছে, তার প্রতিকারে অভাবনীয়ভাবে ‘অন্তর্জালের বাতাসে ভেসে ভেসে’ কুদরতি শাস্তি উপস্থিত হয়েছে।

‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা’ কথাটিকে সত্য প্রমাণ করে মুখ বন্ধ রাখা মজলুমের আর্তনাদে একের পর এক খসে পড়েছে সাধুরূপী বহু জালেমের মুখোশ। ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে অন্যায়ের উপর গড়ে ওঠা ‘দুর্ভেদ্য প্রাচীর।’ সোলএজেন্ট, ঠিকাদার ও মুখপাত্র সেজে যে সব ছদ্মবেশী উম্মাহর বুক বিষাক্ত খঞ্জরে রক্তাক্ত করেছে, কম্পন শুরু হয়ে গেছে তাদের মাঝে। কিন্তু সমাজে কখনো এমন অবস্থা তৈরি হলে মজলুম কর্তৃক জুলুমের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তা আরো বহুবিধ অকল্যাণের দুয়ার খুলে দেয়। আল্লাহ আমাদেরকে এমন পরিস্থিতি থেকে হেফাজত করেন।

জালেমের পতন, জুলুমের অপনোদন অবশ্যম্ভাবী, অনিবার্য। আল্লাহ তাআলা তার সামান্য শক্তি প্রদর্শন করে ক্ষমতা-মদমত্ত ধূর্ত, দাম্ভিক, কূটকৌশলী, অন্যায়কারীকে চোখের পলকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন। সেটা দেখার জন্য একটু ধৈর্য আর তাওয়াক্কুল করে অপেক্ষা করলেই চলে।

একই সাথে আজ যারা জালেম, সীমালঙ্ঘনকারী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তারাও যেন নিজেদের সীমাটুকু ভুলে না যান। কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার করো। এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা যা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে খুব জ্ঞাত।” (সূরা মায়েদা:৮)

লেখক: আলেম, গবেষক ও রাজনীতিবীদ।

সংগ্রহে, মীম সালমান, বিশেষ প্রতিনিধি, “জনকল্যাণ২৪”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ