বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে আমাদের ভবিষ্যত কোনদিকে? – জনকল্যাণ২৪

প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২০

বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে আমাদের ভবিষ্যত কোনদিকে? – জনকল্যাণ২৪

মীম সালমান:ভারতীয় উপমহাদেশে দীর্ঘ মেয়াদি বৃটিশ বিরুধি আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আকাশচুম্বী সপ্ন নিয়ে গঠিত হয় ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ। ইসলামি শিক্ষার পুনর্জাগরণ ও বৃটিশ তাড়ানোর আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষ্যে হাঁটি হাঁটি পা-পা করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে দারুল উলুম দেওবন্দ। সপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ত্যাগ, শ্রম, ও সর্বস্ব বিলীন করে দিতে তৈয়ারি হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা। এতে করে একের পর এক সফলতার মুখ দেখতে থাকে দারুল উলুম দেওবন্দ। ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে দারুল উলুম দেওবন্দের চেতনা। গড়ে উঠে বিশ্বের আনাচে-কানাচে তারই শাখাপ্রশাখা।

কালের পর কাল, যুগের পর যুগ জাতির সুর্য সন্তানরা হয়ে উঠে দারুল উলুম দেওবন্দের সোনালী অর্জন। তাবীঈ, তবে তাবীঈ ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীনদেরন পর দারুল উলুম দেওবন্দের একেকজন সুর্য সন্তানরা গড়ে উঠেন জামানার একেকজন ইমাম। দারুল উলুম দেওবন্দের সন্তানদের এমন আদর্শিকতা দেখে জাতি গর্ববোধ করতে শুরু করে।
তাদেরকে নিয়ে জাতি বুক ভরা আশা আর চোখ ভরা সপ্ন দেখতো! জাতি গর্বের সহিত তাদের সন্তানদেরকে কওমি মাদ্রাসায় পড়াতো!!

তবে কেন আজ বিষন্নতায় ভোগছে জাতি? ৭১’র স্বাধীনতা সংগ্রামের পর দেখা যায় বাংলাদেশে ও ছড়িয়ে আছে দারুল উলুম দেওবন্দের শাখাপ্রশাখা। পাড়া-মহল্লায় ছিটিয়ে আছে দারুল উলুম দেওবন্দের গর্বিত সন্তানেরা। যাদের বুকে লালিত রয়েছে দারুল উলুমের নীতি নৈতিকতা। দারুল উলুম দেওবন্দের একটিই বৈশিষ্ট্য সকলেরই জানা ছিলো যে, ওরা কখনো বাতিলের সাথে আপোষ করেনাহ। ওরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে দ্বিধাভোধ করেনাহ৷ বাংলাদেশে তারই জ্বলন্ত প্রমান ছিলেন শায়খুল হাদিস আজিজুল হক রহ, আল্লামা মোশাহিদ বায়মপুরী রহ, মুফতী আমিনী রহ, গংরা। তাদের একেকটি কথা যেন ছিলো বাতিলের জন্য ভয়ংকর।

তাহলে কোথায় আজ আমাদের সেই ঐতিহ্য? কোথায় আমাদের সেই নীতি নৈতিকতা? জাতি কেন আজ আমাদেরকে মির্জাফরের তালিকায় তালিকাবদ্ধ করতে চাচ্ছে? এর দায়বার কারা নেবে?
বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে কেন আমাদের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে? রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, সামাজিক এবং শিক্ষা বিষয়কর্ম নিয়ে কেন আজ আমরা জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ? সবখানে কেন আজ চরম দুর্ভোগ আর হতাশা? আকাবির স্লোগানদারীদের উপর কেন আজ জাতির থুথু ফেলা? হকের ঢিলারদের উপর কেন জাতির ঘৃনার চোখ বাঁকা? আজ কেন আদর্শকে বিসর্জন করে বাতিলের সাথে বন্ধুত্বের পালা? দালালি, চামচামিতে কেন আজ আমরা হচ্ছি বিশ্ব সেরা?
তবুও কেন মুখে মুকে আকাবিরের স্লোগান?

আমরা বড়দের নিয়ে কথা বলার প্রশ্নই ছিলোনাহ। বড়রাই ছিলেন আমাদের সম্মানের পাত্র। তাদের দেখানো পথ ছিলো আমাদের আগামীর পথচলা। কিন্তু বিংশ শতকের শেষ প্রান্তে এসে দেখি আমরা যাকে নেতা মানবো, যাকে আকাবিরের প্রতিচ্ছবি মনে করবো, তিনিই রাতের আধারে জাতি ভাইয়ের রক্তের সাথে বেঈমানি করতেছে! তখন তো বুকফেটে কাদতে চেয়ে ও পারছিনা! কারণ এদেরকে নেতা হিসেবে জাতির কাছে আমরাই পরিচয় করে দিয়েছিলাম!! যার কারণে তারাই আজ আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে খেলা করছে!

হেফাজতের ৬ ই মের ব্যর্থ রাতের পর থেকেই শুনতে হচ্ছে দালালি আর চামচামির সংবাদ। হেফাজতের আন্দোলনের সময় যারা হেফাজতের ঘুরবিরুধি ছিলো পরে দেখা যায়
তারাই হেফাজতের ভিতরে ঢুকে বাতিলের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যের বাতিঘরকে।বিক্রির সময় সেই সময় অনেকেই ললিপপের লোভে ললিপপ মেনে নিলে ও জাতির কিছু সুর্য সন্তানেরা বিসর্জন করেনি তাদের আদর্শকে। সেই বিসর্জন না করাই কাল হয়ে দাড়ালো জাতির কিছু রাহবারদের জন্য। চলমান সময়ে আতাতি আর দালালিটা তুঙ্গে উঠতে দেখা যাচ্ছে!

হেফাজতের পর ললিপপ! ললিপপের পর সর্বশেষ বিগতদিন জাতি দেখতে পেলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীট হাটহাজারীর পরিস্থিতি! হাটহাজারীটা ও বিক্রি করে দেয়ার পাঁয়তারায় গর্জে উঠে কিছু দালাল আর চামচারা!! হাটহাজারী পর শুরু এবার আমাদের সর্বশেষ আস্তার প্রতিক শিক্ষা বোর্ড  এই লেলিহানের শেষ কোথায়? কেন আজ আমরা বিষন্নতায়? এভাবে চলবে আর কত? এর কি কোন পরিসমাপ্তি নেই,? শুনতেছি এ যুগের জিন্দা উমর আর জিন্দা শায়খুল হিন্দ ও নাকি বেঁচে আছেন! আপনারা কোথায়? চলতে আছে কাঁদা পাল্টা কাঁদা! ঢিল পাল্টা ঢিল! এসব বিষয়ের স্থায়ী কোন সমাদান নেই? আজ যারা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে খেলা করছে তাদেরকে এসব অধিকার কে দিয়েছে? এগুলো কি তাদের বাপদাদার পৈত্রিক সম্পদ? এভাবে আমাদের ভবিষ্যতে কোনদিকে?
আসুন আমরা আমাদের ঐতিহ্যের দিকে ফিরে আসি।

চলমান সময়ের এই বিরাজমানতার মুল নায়ক যারা তাদেরকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে হলে ও ফিরে আসুক আমাদের ঐতিহ্য। পুনরায় জেগে উঠুক আবারো জাতির আস্তা বিশ্বাস। ফিরে আসুক আমাদের ঐতিহ্য।

লেখক;
সাবেক শিক্ষার্থী, মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী চট্টগ্রাম।
বিশেষ প্রতিনিধি , “জনকল্যাণ২৪”।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ