কক্সবাজার সৈকতে দেড় হাজার বস্তা বর্জ্য অপসারণ

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

কক্সবাজার সৈকতে দেড় হাজার বস্তা বর্জ্য অপসারণ

ওসমান আল হুমাম, বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজারঃগত ক’দিনে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র আহত ডলফিন, ক্ষত বিক্ষত কাছিমেরবোবা কান্না শুনতে পেয়েছে।

কক্সবাজার সদর, রামু-১ সংসদীয় আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল সাগর পাড়ে এসে দীর্ঘ লাইভে তিনি বিশ্বের দীর্ঘতম বীচ সংরক্ষণের আহবান জানান। সংবাদ কর্মীদের ধারাবাহিক লেখনীর কারণে জেলা প্রশাসনের টনক নড়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্য বৃহৎ পরিসরে অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটি। গতকাল বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে বর্জ্য অপসারণ কর্মসুচি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গতকাল একদিনেই চার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্য অপসারণ কর্মসুচিতে অংশ গ্রহণ করেন। এসব স্বেচ্ছাসেবকগন প্রায় দেড় হাজার বস্তা বর্জ্য একদিনেই সৈকত থেকে অপসারণ করেছেন। অপসারিত বর্জ্য আগুনে পুড়ে এবং মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে।
কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকত পয়েন্টে গতকাল বুধবার এই বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন। জেলা প্রশাসক জানান, প্রশাসন, সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটি, বেসরকারি উন্নযন সংস্থা (এনজিও) এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীদের স্বেচ্ছামূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমুদ্র সৈকতের বর্জ্য সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হবে। বর্জ্য অপসারণ কর্মসুচি উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা এসব বর্জ্যের উৎস ও কারণ তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে।
সৈকতে বর্জ্য অপসারণ কর্মসুচিতে জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আশরাফুল আফসার এবং কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা,পরিবেশকর্মীসহ ৪ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক স্বাস্থ্যবিধি মেনে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে দরিয়ানগর,কলাতলী, সুগন্ধা,লাবণী বীচ পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেয়।
এনভায়রনমেন্ট পিপল নামের স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগটনের প্রধান রাশেদুল মজিদ জানান- ‘কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত হচ্ছে বাংলাদেশের গর্বিত একটি স্বাস্থ্যকর স্থান । বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজারের সৈকত রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকেরই নাগরিক দায়িত্ব। তাই আমরা স্থানীয় ১১ টি পরিবেশবাদী
সংগঠনের কয়েকশ কর্মী এখানে যোগ দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সংগঠনের কর্মীরা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ভাগ করে নিয়েই পরিচ্ছন্নতা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের অনুরোধে সাড়া দিয়ে সৈকত সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি প্যারাসেলিং পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি বর্জ্য বন্যা হয়েছে। এখানে পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত রয়েছে দরিয়ানগর গ্রীণ ভয়েস নামের প্রতিষ্টানের অর্ধশতাধিক পরিবেশপ্রেমী। এই সংগঠনটি গত শনিবার থেকেই পরিবেশ রক্ষায় মৃত কচ্ছপ বালিতে মাটি চাপা দিয়ে আসছে এবং জীবিতদের গভীর সাগরে ছেড়ে দিচ্ছে। সেই সাথে তারা বর্জ্যও অপসারণ করে আসছে। পরিবেশ কর্মী পারভেজ জানান, সবচেয়ে বেশি বর্জ্য এসেছে দরিয়ানগর থেকে প্যারাসেলিং পয়েন্টে। বিপুল বর্জ্য পরিস্কারে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে।
অনুরুপ সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে পরিচ্ছন্নতায় ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুনের নেতৃত্বে সংগটনের ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত রয়েছে। সোশ্যাল এক্টিভিস্ট ফোরামের সমন্বয়ক এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের একার পক্ষে সৈকতের এত বিপুল বর্জ্য পরিস্কার করা সম্ভব নয়। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমুদ ্রসৈকতের সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজারে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ১১ টি সংগঠনের ৪ শতাধিক পরিবেশকর্মী অংশ নিয়েছেন।
সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত ইরফানুল হাসানের নেতৃত্বে ‘কক্সিয়ান এক্সপ্রেস’, ডায়াবেটিক পয়েন্টে আফরিন আরিয়ান সায়মনের নেতৃত্বে ‘তারুণ্যের প্রতিবাদ’, লাবণী পয়েন্টে ছাত্রনেতা তন্ময় ও মুক্তাদির জয়ের নেতৃত্বে পরিবেশ বিক্ষণ এর কর্মীরা পচ্ছিন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান জাহিদ খান বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষার জন্য মেডিকেল টিম, ব্যাগ, অন্যান্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাত থেকে উপর্যুপরি তিন দিন ধরে আকস্মিক সাগরের জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার সৈকতে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ভেসে আসে। এসব বর্জ্যের মধ্যে সামুদ্রিক কাছিম ও সাপ সহ বেশ কিছু সামুদ্রিক প্রাণীও রয়েছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের জন্য ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
তবে জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এসেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ