জমিয়ত একালে ও সেকালে:এখলাসুর রহমান রিয়াদ- জনকল্যাণ ২৪

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

জমিয়ত একালে ও সেকালে:এখলাসুর রহমান রিয়াদ- জনকল্যাণ ২৪

১৯৭৬ সাল ৷ জমিয়তের দুইদিন ব্যাপী সম্মেলন ৷ সম্মেলনে আল্লামা আজীজুল হক সভাপতি, আল্লামা শামসুদ্দীন কাসেমী সহ সভাপতি ও আল্লামা মুহিউদ্দীন খান মহাসচিব নির্বাচিত হলেন ৷ উক্ত সম্মেলনেই অন্যান্য প্রস্তাববালীর সাথে কওমী মাদরাসাসমূহের সমন্বিত বোর্ড গঠনের প্রস্তাব পাস হলো ৷ বোর্ড গঠনের জন্য তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয় ৷ পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় প্রস্ততি সম্পন্ন করে ১৯৭৮ সালের ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ৩ দিনব্যাপী সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) গঠন হয় ৷

১৯৮১ সাল ৷ আল্লামা মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রাজনৈতিক ময়দানে আবির্ভূত হন ৷ তিনি তাওবার রাজনীতির ডাক দেন ৷ জাতীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে যান ৷ জমিয়ত তখন রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখের সমন্বিত সুবিশাল প্লাটফর্ম ৷ কিন্ত কওম ও মিল্লাতের বৃহত্তর স্বার্থে জমিয়ত তখন ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এক সিদ্ধান্তে উপনীত হয় ৷ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে হাফেজ্জী হুজুরের আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জমিয়ত ৷

জমিয়ত এখনো তেমনি আছে যেমনটা অতীতে ছিলো ৷ আকাবিরে দেওবন্দের নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বহুমুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ৷ পার্থিব স্বার্থের বহু উর্ধ্বে তাদের পথচলা ৷ একেকজন বুযুর্গের ত্যাগ ও কুরবানী নিয়ে লিখলে শতশত পৃষ্ঠা হয়ে যাবে ৷

যাঁরা চলে গেছেন তাঁদের রেখে যাওয়া আমানত একজন মহীরুহ আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমীকেই দেখুন ৷ এক জীবন্ত কিংবদন্তি ৷ দ্বীনের জন্যে জীবন বিলিয়ে দিতে সদা প্রস্ততি থাকলেও দুনিয়াবী স্বার্থের জন্যে এক সেকেণ্ডও ব্যায় করতে রাজী নন ৷ পার্থিব ক্যালকুলেশনে এমন মহীরুহরা পিছিয়ে থাকলেও পরকালের বাদশাহী বরণ করতে এগিয়ে চলছেন ৷

আমরা গর্বিত এমন পিতাদের সন্তান হতে পেরে ৷ তাঁদের আদর্শের উত্তরাধিকার ধারণ করুক আজকের প্রজন্ম ৷

লেখক:- সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ