সিলেটের মা ও শিশু হাসপাতালে অপচিকিৎসায় সাংবাদিক পুত্রের মৃত্যু- জনকল্যাণ ২৪

প্রকাশিত: ১২:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

ফরিদ আহমদ ফেরদাউস: সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকাস্থ মা ও শিশু হাসপাতালের অপচিকিৎসা, নানা অনিয়ম ও অভিযোগের শেষ নেই। গত ৬জুন চিকিৎসা সেবা না পেয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় আসে এই হাসপাতালের নাম। এবার ভূল চিকিৎসায় এক সাংবাদিক শিশু পুত্রের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। হাসপাতালের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, রোববার রাত ১০টায় সিলেট নগরীর মা ও শিশু হাসপাতালে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক নূর উদ্দিনের শিশু পুত্র রিফাতের পায়ুপথে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সোমবার (৬জুলাই) সকালে মৃত্যু হয় শিশুটির। তবে, শিশুর পিতা সাংবাদিক নুর উদ্দিনের দাবি, কর্মরত ডাক্তারদের অবহেলা আর ভূল চিকিৎসায় তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

সাংবাদিক নুর উদ্দিন বলেন, রোববার রাতে অপারেশনের পর ডাক্তার শামসুল ইসলামকে ছেলের পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে চলে যান। আমি ওয়ার্ডে গিয়ে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে তাদেরকে বললে, তারা বলেন আপনার ছেলের অবস্থা ভাল না। তাকে আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সকালে ছেলে মারা গেছে বলে জানান তারা। সাংবাদিক নুর উদ্দিন তার শিশুপুত্রকে ডাক্তারের অবহেলা আর ভূল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

এবিষয়ে মা ও শিশু হাসাপাতালের অ্যাডমিন ম্যানেজার মোরশেদুর রহমান শিশুটির ভূল চিকিৎসায় বা হাসপাতালের গাফলতির কারণে মৃত্যু হয়নি দাবি করে বলেন, ওই শিশুর অপারেশন আমাদের ওখানে হয়েছে এবং শিশুটি মারা গেছে ঠিকই। তবে শিশুর পিতা আবেগাপ্লুত হয়ে আমাদের প্রতি ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনেছেন। তার ছেলের খাদ্যনালী ও পায়খানার রাস্তায় সমস্যা ছিলো। অপারেশন শেষে শিশুর নিউমোনিয়া বেড়ে যায়, যে সমস্যা ওই শিশুর আগে থেকেই ছিলো। এমতাবস্থায় আমরা শিশুকে আইসিইউতে নেই এবং তার চাচার সঙ্গে কথা বলেই নিয়েছি। ওই সময় শিশুর পিতা ওখানে উপস্থিত ছিলেন না তাই তাকে জানানো যায়নি। কিন্তু শিশুর অবস্থার উন্নতি হয়নি তাই সে মারা যায়।

শিশুর পিতা আবেগপ্রবন হয়ে হাসপাতালের উপর মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন মোরশেদুর রহমান আরও বলেন, প্রয়োজনে যে কোনো মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে, এ বিষয়ে জানতে অপারেশনের দায়িত্ভে থাকা ডা. শামসুর রহমানের সাথে কোন মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ