সম্ভাবনাময় কিশোর গড়ে তুলবেন যেভাবে: মাওলানা ইমরান হোসাইন চৌধুরী

প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

সম্ভাবনাময় কিশোর গড়ে তুলবেন যেভাবে: মাওলানা ইমরান হোসাইন চৌধুরী

মানুষের জীবনের প্রধানত চারটি ধাপ। জন্মের পর শিশু। কিছু বুঝদারি আসার পর কিশোর। অতঃপর যুবক। সর্বেশেষ বুড়ো।

প্রত্যেক মানুষ নিজে নিজে তার জীবনের দুটি ধাপ যৌবন ও বৃদ্ধকালকে কাজে লাগায়। কেউ কল্যাণের পথে আবার কেউ বিপথে৷
তবে যৌবন ও বৃদ্ধকালে কিছু মানুষকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে সুপথে নিয়ে আসতে হয়৷

কিন্তু এর ব্যতিক্রম শিশু ও কিশোরকালীন সময়। শিশুকালে শিশুরা নিজেদের সত্ত্বা সম্পর্কেও ঠিকটাক বুঝে না। কখনও আগুনে হাত দেয় আবার কখনও পানিতে ডুব দেয়৷ হাঁটতে গেলে হুঁচট খায়৷ খেতে বললেও মানা করে। অর্থাৎ শিশুরা ভালোমন্দ মোটেও উপলব্ধি করতে পারে না। নিজে নিজে কিছুই করতে পারে না।
অবশ্যই কিশোরকালে অতিক্রম করলে পরে অনেকটা নিজে নিজে করতে ও বলতে পারে। তবে অনেক সময় বাস্তবতার বহুদূরে থাকে৷ খুব অল্পসংখ্যক কিশোর সঠিক-অঠিক বুঝতে পারে৷ তাদেরকে ভালো ও আলোর পথের দিশা দিলে তারা সে পথেই চলবে।
তবে হ্যাঁ, কিশোরেরা সম্মান-অসম্মান, ছোট-বড় তারতম্য করতে পারে৷ তাদের দিলে যা গেঁথে দেওয়া হয় তা-ই লুফে নেয়। তারা বেশিরভাগ প্যাচপ্যাচমুক্ত সোজাসাপটা বিষয়কে আকড়ে ধরে।
তাইতো আজকের কিশোর আগামীর সম্ভাবনা।
আসুন জেনে নিই কিভাবে কিশোরদের আগামীর সম্ভাবনাময় করে গড়ে তুলবো।

নিম্নে কিশোরগুলোকে সম্ভাবনাময় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কিছু টিপ্স দেওয়া হয়।

এক.তাদেরকে বেশি বেশি উৎসাহিত করুন। কারণ তারা উৎসাহপ্রবণ। তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনাকে সময়মতো কাজে লাগাবার চেষ্টা করবেন। তাদের উৎসাহস্থলকে কন্ট্রোল করে ভালো পথের দিশা দিন। দেখবেন আনন্দের সঙ্গে তারা আচ্ছামত লক্ষ্যে পৌঁছে যাচ্ছে।

দুই. তাদের সম্মুখে ভালোমন্দের পার্থক্য তোলে ধরুন। কারণ কিশোরদের অন্তর নরম মাটির মতো। আপনি তাদের হৃদয়ে যা গাঁথার চেষ্টা করবেন তা-ই সহজে গ্রহণ করবে৷ কাজেই তাদের সম্মুখে ভালোমন্দের পার্থক্য তোলে ধরুন। দেখবেন অনায়াসে ভালোকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছে এবং খারাপকে ঘৃণার চোখে দেখছে।

তিন.তাদেরকে স্বপ্ন দেখতে শেখান। দেখবেন ক্রমান্বয়ে আপনার দেখানো স্বপ্নবুনে আলোর পথের সন্ধানী হচ্ছে। এমনকি সর্বশেষ সাক্সেসও হবে। সো তাদেরকে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করুন।

চার.বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সা. র জীবনচরিত এবং সফল মনীষাদের জীবনী শোনান। তাদের মতো হতে বলুন। মনীষাদের সফলতার চাবিকাঠি কি ছিল তা বাতিয়ে দিন। দেখবেন তারাও তাদের মতো হতে স্বন দেখতে শুরু করবে৷

পাঁচ. তাদেরকে নিয়ে সমাজিক কৃষ্টিকালচার সম্পর্কে আলোচনা করুন। ভদ্রতা কাকে বলে? কার সঙ্গে কি আচরণ করতে হয়? কি করলে সুনাম কুড়াবে? আর কি করলে ঘৃণিত হবে? তা নিয়ে হাসিমুখে আলাপচারিতা চালিয়ে যান। ইনশাআল্লাহ, তারা সামাজিক হবে। ভদ্র হবে৷

ছয়. আপনি মন্দ হোন কিংবা ভালো হোন, আপনার মাঝে লুকিয়ে থাকা ভালো দিকগুলো তাদের সম্মুখে আলোচনা করলে তারা আলোকিত হবে। সঠিক-অঠিক বুঝতে সক্ষম হবে।

সাত. সঙ্গী,সহচর ও বন্ধু হিসেবে কাকে নির্বাচিত করবে এর একটা খতিয়ান তোলে ধরুন৷ দেখবেন তারা সহচর আর বন্ধু নির্বাচনে গলদ করবে না। অনেক সময় কিশুরেরা বন্ধু আর সঙ্গীদের দ্বারা প্রতারিত হয়,দুষ্টু হয় এবং নষ্ট হয়। সো বন্ধু কিংবা সহচর নির্বাচনের মাপকাঠি তাদেরকে অবগত করুন।

আট.কুরআন, সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত করুন৷ সুন্নাহর গুরুত্ব বোঝান। দেখবেন কিশোরগুলো সুন্নাহভিত্তিক জীবন পালনে উৎসাহিত হবে।

নয়. তাদেরকে সব সময় প্রফুল্লিত থাকতে দিন। তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণ করুন৷ দেখবেন হৃদয়ের অতল থেকে আপনার দেওয়া উপদেশগুলো মেনে নিচ্ছে।

দশ. তাদের অন্তরে আল্লাহর শাস্তির ভয় এবং জান্নাতের আশা জাগ্রত করুন। সবধরণের গুড়ামি, পাপ-পঙ্কিলতা,হিংসা-প্রতিহিংসা পরিহার করতে শেখান। হিংসার পরিণাম সম্পর্কে আলোচনা করুন। পাপের শাস্তি বর্ণনা করুন। দেখবেন তারা নিষ্কলুষ জীবন যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে।

এগারো. কিশোরগুলোক পড়ালেখায় সুনাম অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করুন। ইনশাআল্লাহ প্রতিষ্ঠানের হাওয়ায় মিশে যাবে। ভালোয় আলো দেখবে৷

বারো. নিয়মিত তাদেরকে তদারিকতে রাখুন৷ তার চাল-চলন ফলো করুন।অসঙ্গিতি ধরা পড়লে হাসিমুখে নম্র ভাষায় বারণ করুন। আর বার বার তাদেরকে নিয়ে আপনার লালিত স্বপ্ন স্মরণ করিয়ে দিন।

সম্মানিত পাঠক-পাঠিকা! উপরের টিপ্স অনুযায়ি আপনি আপনার কিশোরগুলোকে সযত্নে গড়ে তোলুন। দেখবেন আজকের কিশোরগুলো আগামীর সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠছে। সো কিশোরগুলোকে সুপথের দিশা দিন। জ্ঞানের মশাল হাতে লক্ষ্যে পৌঁছুতে অনুপ্রাণিত করুন। ইনশাআল্লাহ, আজকের কিশোর আগামীর সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠবে।
কিন্তু যদি আপনি তাদেরকে সুপথের দিশা না দিয়ে কুপথে পরিচালিত করেন, তারা অবশ্যই পরিচালিত হবে। তবে একদিন অবশ্যই আপনাকে গালি দেবে৷ আপনার দেওয়া টেবলেট নিয়ে কথা বলবে৷
সো আসুন, সম্ভাবনায় কিশোর গড়ে তুলতে বর্ণীত টিপ্সগুলো ফলো করি৷ ইনশাআল্লাহ, কাজ দেব।

লেখক: ছড়াকার, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ