ভাল কাজে প্রতিযোগিতা করা: মাসুম আল মাহদী

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

ভাল কাজে প্রতিযোগিতা করা: মাসুম আল মাহদী

 

কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘ভালো কাজে তোমরা সবাই প্রতিযোগিতা করো; (কারণ) আল্লাহপাকের দিকে হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন স্থল।’ (সূরা মায়েদা : ৪৮)। সাহাবায়ে কেরামের সময়কালে ভালো কাজ তথা নেক আমলের প্রতিযোগিতা হতো। কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, নফল রোজা, তাহাজ্জুদ, রাসুল (সা.) এর খেদমত করা, জাকাত প্রদান,মানবতার কল্যাণ, হজ পালন ও সালাম বিনিময়ের ক্ষেত্রে পরস্পর প্রতিযোগিতা হতো। আবু বকর সিদ্দিক ও ওমর (রা.) এর মধ্যে সালাম বিনিময় নিয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতা হতো। ভালো কিছু অর্জনে প্রতিযোগিতা করার জন্য কোরআনে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আমরা ধনসম্পদ, বাড়ি-গাড়ি অবৈধ উপায়ে বিনা পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করতে চাই। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কাজেই তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে অগ্রসর হও।’ (সূরা বাকারা : ১৪৮)।

কোরআনে আমাদের জান্নাতের পথে প্রতিযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অথচ আমরা ধনসম্পদ উপার্জনের দিকে ব্যতিব্যস্ত। মিছে মায়ায় মোহগ্রস্ত হয়ে পরকালীন জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে ভুলে গিয়েছি। ‘তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যার বিশালতা ও বিস্তৃতি আকাশ এবং পৃথিবীর মতো।’ (সূরা হাদিদ : ২১)।

বিপদ-আপদে ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করতে হবে। আল্লাহ বিপদ-আপদ দিয়ে বান্দাকে পরীক্ষা করেন। যারা ধৈর্যের প্রতিযোগিতায় জয়ী হবেন, তারাই জান্নাতি। আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তারপরও আল্লাহর গোলামি ও দাসত্ব ছাড়েননি। আল্লাহর রহমতের হাল ছাড়েননি। ইসমাঈল (আ.) কে কোরবানি করার জন্য প্রস্তাব দেয়ার পর উত্তর দিয়েছিলেন, ‘হে পিতা! আপনি আমাকে ধৈর্যশীল হিসেবে পাবেন।’ কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ নিশ্চয়ই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। সেসব লোক ছাড়া, যারা ঈমান এনেছে, নেক কাজ করেছে, একে অপরকে (নেক কাজের) তাগিদ দিয়েছে এবং একে অপরকে ধৈর্য ধারণ করার উপদেশ দিয়েছে।’ (সূরা আসর : ২-৩)।

কেয়ামতের দিন সত্যবাদীরা সত্যবাদীদের সঙ্গে এবং মিথ্যাবাদীরা মিথ্যুকদের সঙ্গে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়াবে। দুনিয়ায় যারা মিথ্যার প্রতিযোগিতা করেছে, সেদিন তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।
আমাদের সত্য কথা বলা ও সত্যবাদীদের সাথী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এরশাদ হয়েছে, ‘সত্যবাদীদের সাথী হও।’ (সূরা তওবা : ১১)। আরও এরশাদ হয়েছে, রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সূরা বাকারা : ৪৩)। ‘এবং তোমরা সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’ (সূরা হিজর : ৯৮)।

আমাদের অনেক অর্জন ও নেক আমল সঙ্গ দোষে নষ্ট হয়ে যায়। মন্দ কাজের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা মন্দ কাজের দিকেই আহ্বান করে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তারা তো এটাই চায় যে, তারা নিজেরা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনিভাবে কাফের হয়ে যাও, যেন তোমরা একেবারে তাদের সমান হয়ে যাও।’
(সূরা নিসা : ৮৯)।
সমাজে হিংসা, গিবত, পরনিন্দা, এতিমের সম্পত্তি দখল, মারামারি, ঝগড়া-ফ্যাসাদ সৃষ্টির প্রতিযোগিতার মহোৎসব চলছে। মিথ্যে
মোহের নেশায় বন্দি হয়ে মানুষ ঈমান-আখলাক সবই হারাতে বসেছে। খুন, ধর্ষণ, দখল-বেদখল, হত্যা, আত্মহত্যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। সমাজের চলমান অস্থিরতা প্রশমনে দুনিয়ার ‘খাই খাই’ মোহ মায়া ত্যাগ করে জান্নাতের দিকে ধাবিত হতে হবে। মন্দকে পরিহার করে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা করতে হবে। আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী মানুষের খোঁজে প্রতিযোগিতা করতে হবে। ভালো কাজের জন্য ভালো মানুষের আকাল চলছে। মন্দকাজের জন্য সর্বত্র সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

আমরা যদি ভালো কাজের জন্য প্রতিযোগিতা করি, তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পরকালীন জীবনে জান্নাতিদের সঙ্গে শামিল হওয়ার সুযোগ করে দেবেন। দুনিয়াতেও প্রশান্তিময় জীবন দান করবেন। মন্দ লোকেরা মন্দ কাজের দিকে আহ্বান করবে। এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের ভালো কাজের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।
আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখকঃ-সম্পাদক,জনকল্যাণ ২৪

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ