সুখ কোথায়

প্রকাশিত: ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

সুখ কোথায়

আরিয়ান রমজান

ছোট-বড়, বিত্তবান, বৈভবহীন সবার-ই
চুরাবালির এ ধরায় কালপরম্পরায় এই বিষয়টি নিয়ে নানান তলবের চাহিদা পরিলক্ষিত হয় ,যে আসলে সুখ কোথায়।
বহুকাল পূর্ব থেকেই মনোবিজ্ঞানী, মনোবিদ্যাজীবিরা নানাভাবে সুখের সংজ্ঞা দিয়ে আসলেও প্রকৃত সৃখ কোথায় প্রশ্নটি থেকেই যায়। অর্থাৎ দার্শনিকদের সংজ্ঞা ভেদ করে সুখ কোথায় প্রশ্নটির দিব্যি অবতারণা ঘটে।
চিন্তাশীল মনোবিজ্ঞানীদের সুখের নানান সংজ্ঞানুযায়ী অনেকে সুখের জন্যে বেছে নিয়েছেন কল্পনাতীত বিত্ত-বৈভবের অনুসন্ধান। অবর্ণনীয় বিত্ত, গাড়ী-বাড়ী, বাহারী সম্পদের মালিকানা নিজস্ব ঝুলিতে রেখেও নতুন করে জানতে চায় প্রকৃত সৃখের কেন্দ্রস্থল কোথায়।

অতএব চন্দ্রালোকের ন্যায় প্রমাণিত মনোবিজ্ঞানীদের এ ধারণা ফলপ্রসূ নয়।

বিজ্ঞানওয়ালাদের ধারানুযায়ী সুখের সন্ধানে অনেকে নেমে যায় যশখ্যাতি অর্জনের উন্মাদনায়। কল্পিত উদ্দেশ্য হাসিলে পিছু না টেনে কেউ হয়ে যায় বলিউড, টালিউডের নায়িকা, গায়িকা। দেশের গণ্ডি অতিক্রম করে ভিনদেশেও যাদের সুনাম, সুখ্যাতি ও ভক্তদের আনাগোনা। বেলাশেষে সেই বলিউডের তনুশ্রীরাই যৌন হয়রানির অভিযোগ, অনোযোগ দাঁড় করায়। আক্ষেপ প্রকাশ করে আত্মমর্যাদা বিসর্জনের।
আবারও প্রতীয়মান হল যশখ্যাতি অর্জনে সুখের ঠিকানা মনোবিজ্ঞানীদের এ ধারণাটিও ফলপ্রসূ নয়।

অনেকে তাদের কল্পনাপ্রসূত বিলাসবহুল খাওয়া-দাওয়া বনভোজনকেই সুুখের চাবিকাঠি নির্ধারণ করেছেন। বেলা শেষে এখানেও ধুলোর আস্তারণের আত্মপ্রকাশ ডায়াবেটিস ইচ্ছে করলেই উঁচুদরের অরণ্যাদি, রম্যস্থানে দলবদ্ধভাবে প্রীতিভোজনে শরীক হতে পারে না ।
অধিক ভোজনে ডাক্তারী নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে।

এখানেও দৃষ্টিগোচর হয় কেবল বিলাসবহুল জীবন যাপন, নিরন্তর বনভোজনের আয়োজনে শরীক হলেই প্রকৃত সুখ পাওয়া যায়না।

কেউবা অধিক নারীগ্রহণে (অধিক বিয়ে) সুখের খুঁজে নেমে দিনের সূর্য রাতের চন্দ্রালোকে অস্ত যাওয়া মাত্রই ছুটে চলে পতিতালয়, বেশ্যালয়, কেউবা পাঁচতারকা হোটেলে বাহারি রকমের যৌন ব্যবসায়ীদে সংশ্রবে।
বরাবরের মতই এখানেও ( অধিক বিয়ে) প্রকৃত সুখ কোথায় প্রশ্নের পূনরাবৃত্তি ঘটে।

মোদ্দাকথা মনোবিজ্ঞানীদের দেওয়া সুখের সকল সজ্ঞা-ই সুখের পরিচয় দিতে সক্ষম বরঞ্চ পূনরায় সুখ কোথায় প্রশ্নের উত্তোলন ঘটে।

আসলে সুখ কোথায়? কোথায় সুখের কেন্দ্রস্থল, কোথায় সুখের ঠিকানা? কিসের মাঝে সুখের অবস্হান?

সুখ হল অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক আলী বানাতের মতো নিজেকে আল্লাহর সমীপে সপে দেয়ার মাঝে। বিপদ-আপদ, বালা-মছিবত সব হালতে রবের স্মরণাপন্ন হওয়ার মাঝে। সুখ হল সুদিন, কুদিনে সর্বদায় রবের হুকুম জারির মাঝে। সুখ হল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সৃষ্টিকর্তার পায়ে মাথা ঠেকানোর মাঝে।
কর্পোরেট দুনিয়ার ভোগ-বিলাস কেবলই ঠুনকো
মরুভূমির মরীচিকার মত।
আজ পর্যন্ত নিজেকে স্রষ্টার সমীপে সম্পূর্ণ সপে দেওয়ার পরেও কেউ নতুন করে সুখ কোথায় প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি ঘটায় নি, ঘটাবেও না ইনশাআল্লাহ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ