সালাম: ইসলামী অভিবাদনঃ-মাওলানা রেজাউল কারীম

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

সালাম: ইসলামী অভিবাদনঃ-মাওলানা রেজাউল কারীম

সালাম ইসলামের একটি অন্যতম শিয়ার বা নিদর্শন। সালাম হলো ইসলামী অভিবাদন৷ মূলত: সালাম অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা, দোষ-ত্রুটি মুক্ত, আনুগত্য প্রকাশ ইত্যাদি। আল্লাহ তা’আলার একটি গুণবাচক নাম হলো সালাম। কারণ, তিনি সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং তিনিই নিরাপত্তাদানকারী৷

মুসলমানদের পারস্পারিক কুশল বিনিময়ের একমাত্র মাধ্যম সালাম বিনিময়। ছোট্ট একটি শব্দে নিহিত রয়েছে অনেক মধুময় দরদ, অগণিত মায়া-মহব্বত ও ভালবাসা। সালামের মাধ্যমে স্থাপিত হয় বন্ধুত্ব, অর্জিত হয় ভালবাসা এবং নিরাপত্তা লাভ হয়। সালাম দাতা যেনো পরোক্ষ ভাবে বলছে, আমি তোমার হিতাকাংখী, নিরাপত্তা দানকারী ও কল্যাণকামী। সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তুমি ভয়-ভীতি ও চিন্তামুক্ত থাকতে পারো। গুডমর্নিং, হায়, হ্যালো ইত্যাদি শব্দ মুসলিমদের জন্য ইসলামী অভিবাদনের শব্দ নয়।
আসসালামু আলাইকু হলো জান্নাতীদের অভিবাদনের বাক্য।

সালামের সূচনা : পৃথিবীর আদি থেকেই সালামের প্রচলন হয়। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- আল্লাহ তা’আলা হযরত আদম আ. কে তাঁর স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। তাঁকে সৃষ্টি করে আল্লাহ তা’আলা বললেন, যাও ঐ দলটিকে সালাম দাও। তাঁরা হলেন- ফেরেশতাদের উপবিষ্ট একটি দল। তাঁরা তোমার সালামের জবাবে কী বলে তা মনোযোগ সহকারে শুনবে। কারণ, তাঁরা যে জবাব দেবে তা-ই হবে তোমার ও তোমার বংশধরদের সালামের জবাব অত:পর আদম আ. তাঁদের নিকট গেলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, আসসালামু আলাইকুম। ফেরেশতাগণ জবাবে বললেন, আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ। নবী সা. বলেন, তাঁরা ওয়ারাহমাতুল্লাহ বৃদ্ধি করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে আদম আ. এর আকৃতিতেই প্রবেশ করবে এবং তার উচ্চতা হবে ষাট হাত। আদম আ. এর পরবর্তী সৃষ্টির আকৃতি ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে বর্তমান আকৃতিতে পৌঁছেছে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)

সালামের গুরুত্ব
১। ইসলামের উত্তম আমল : ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃদৃঢ় ও অটুট রাখার উত্তম মাধ্যম সালাম বিনিময়। এতে ব্যক্তির উন্নত আচার-আচরণ ও উত্তম স্বভাবেরও প্রতিফলন ঘটে। আর এটি ইসলামের উত্তম আমল। হযরত আবদুল্লাহ ইবন আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞেস করেন, ইসলামে কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? রাসূলুল্লাহ সা. প্রত্যুত্তরে বললেন- অনাহারিকে খাওয়ানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত)৷
২। ভালবাসা বৃদ্ধির মাধ্যম : সালামের মাধ্যমে ভালবাসা বৃদ্ধি পায়। প্রিয় নবী সা. বলেন- মু’মিন হওয়া ছাড়া জান্নাতে যাওয়া যাবেনা, আর পারস্পরিক ভালবাসা ছাড়া মু’মিন হওয়া যাবে না। আমি কী তোমাদেরকে বলবো কোন জিনিসের ফলে তোমাদের মধ্যে ভালবাসা সৃষ্টি হবে? তা হলো সালাম দেয়া। (মিশকাত)
৩। জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম : মহানবী সা. বলেন- চারটি কাজ যে ব্যক্তি করবে সে নির্বিঘ্নে জান্নাতে যেতে পারবে। যেমন তিনি বলেছেন- অনাহারিকে খাদ্য দাও, সালাম দাও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড়, অত:পর নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করো৷ (কুরতবী, মসনাদে আহমদ)
হযরত বারা রাযি থেকে বর্ণিত:
নবী সা.বলেনঃ তোমরা সালামের বহুল প্রসার করো, তাহলে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
সালাম হলো মুসলিমদের ভূষন৷ ইসলামের শিক্ষা হলো একে অপরের সাথে সাক্ষাত হলে সালাম বিনিময় করা৷ সালাম বিনিয়ের ফলে পরস্পর শান্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বাড়ে৷ কারো সাথে সাক্ষাত হলে প্রথমেই আমরা সালাম দেবো৷ তারপর কথা শুরু করবো ইনশাআল্লাহ৷ ছোট বড় সকলের মাঝে ব্যাপক সালামের প্রসার করা জরুরি৷ মা, বাবা, শিক্ষক-ছাত্র, স্বামী, স্ত্রী, শশুড়-শাশুড়ি, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশি সকলের মাঝে ব্যাপক হোক সালাম বিনিময়৷ রাসূল সা. যে বলেছেন- যে ব্যক্তি আগে সালাম দেবে, সে হবে অহঙ্কারমুক্ত৷
আসুন সবাই মিলে বেশি বেশি সালামের চর্চা করি৷

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ