ক্ষণজন্মা বিপ্লবী রাহবর উস্তাদে মুহতারামের তরে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিরন্তর

প্রকাশিত: ২:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

ক্ষণজন্মা বিপ্লবী রাহবর উস্তাদে মুহতারামের তরে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিরন্তর

সাইদুজ্জামান আল হায়দার

অালহাজ্ব মাওলানা আব্দুল মুছাব্বির আমবাড়ী লন্ডন প্রবাসী হাফিজাহুল্লাহু তাআলা-এর অক্লান্ত ত্যাগ আর শ্রমের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রাণের জামেয়া “মারকাযুল উলূম ফাতেমাতুয যাহরা রা.পাচঁগ্রাম মহিলা মাদ্রাসা, আমবাড়ী বাজার, দোয়ারা বাজার, সুনামগঞ্জ। হায়দর পুর মাদ্রাসা, ছাতক,সুনামগঞ্জ। আমবাড়ী হেফাজতে ইসলাম টাইটেল মাদ্রাসা,দোয়ারা বাজার,সুনামগন্জ।উক্ত দরসগাহ দ্বয়ের সোনালী ইতিহাসের নিপুণ কারিগর।

অজপড়া গাঁয়ের তীরে সুবিশাল জামেয়াত্রয় থেকে ইলমের সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে এখন বিশ্বময়।জামেয়াত্রয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আপনাকে, আপনার অমর কীর্তিতে দাঁড়িয়ে।

“পল্লীর তীর ধন্য হয়েছে তোমার-ই পরশে আজ

নববী কানন গড়ে সোনালী অধ্যায়ের আপনি মহারাজ”

সত্যিই আপনি মহারাজ,দ্বীন রক্ষার দূর্গের ঈর্ষণীয় কারিগর।

তা’লিম, তাবলীগ, জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহর মূলনীতিতে প্রতিষ্ঠিত জামেয়াত্রয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আজ পর্যন্ত তার লক্ষ্যের উপর অটল রয়েছে।

তা’লিম: জামেয়াত্রয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আজ পর্যন্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা ইলমে ওহী শিক্ষাদানের পাশাপাশি সমকালীন বিশ্বে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিক্ষা দিচ্ছে আধুনিক সব বিষয়াদি। বিশেষ করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলী, ইতিহাস এবং সাহিত্যের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।যে কারণে প্রতি বছর জামেয়াদ্বয় থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন একঝাঁক তরুণ আলেম,আলেমা ও ক্বারিয়া। যারা সহজেই আধুনিক সময়ের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারেন।

তাবলীগ: দ্বীন প্রচার প্রসারের ক্ষেত্রে শুরু থেকে জামেয়াত্রয়ের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে তাবলীগী জামাতের সাথে জামেয়ার ছাত্র এবং উস্তাদগণ সরাসরি সম্পৃক্ত।

জিহাদ: ইসলাম বিরোধি কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে জামেয়াত্রয় সর্বদা সবার সাথে থেকে আন্দোলন ও সংগ্রামে সরাসরি জড়িত ছিল আরও এগিয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ!

বর্তমান এবং ভবিষ্যতে সমস্ত ইসলাম বিরোধী অপশক্তির উত্থান রুখতে জামেয়াত্রয় বদ্ধপরিকর ।

আজ জামেয়া কোনটা প্রায় এক যুগে পা রেখেছে!কোনটা প্রায় তিন যুগে!কোনটা প্রায় পাঁচ যুগে পা রাখছে!কত সহজে বলে ফেললাম! যতটুকু সহজে বলেছি, জামেয়াত্রয় ততটুকু সহজে এ পর্যন্ত পৌঁছেনি। জামেয়াগুলো প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত পৌঁছার পিছনে রয়েছে কত মুজাহাদা,কান্না, উত্তান- পতন ও জাগরণের ইতিহাস।

উস্তাদে মুহতারামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে হাজারো অপবাদ,জুলুম আর অত্যাচার।জামেয়া গুলোর জন্য বারবার জনতার আদালতে ও মাওলার দরবারে হাজিরা দিতে হয়েছে তাঁকে।শিক্ষার্থী এবং উস্তাদগণকে বারাবার বুঝাতে হয়েছে। জামেয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলেই সে সম্পর্কে অবগত।

সুনামগন্জের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর
জায়গাকে যিনি ইলমে নববীর বাগানে পরিণত করেছেন।

জামেয়ার জন্য যিনি সর্বপ্রকার সুখ,শান্তি আর জালিমের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমাদেরকে উপহার দিয়েছেন নববী কানন। যার রক্ত আর ঘামের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জামেয়া গুলো। সেই মহান ব্যাক্তি প্রিন্সিপাল আব্দুল মুছাব্বির সাহেবের জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন উনার নেক হায়াত দান করেন হজরতের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার সুযোগ দান করেন। আমীন, ছুম্মা আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

লেখক -হজরতের নগণ্য ছাত্র,মুহাদ্দিস,কলামিস্ট ও আলোচক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ