আমাদেরকে আরও সতর্ক হতে হবে

প্রকাশিত: ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

আমাদেরকে আরও সতর্ক হতে হবে

মুফতি আমিনুর রশিদ গোয়াইনঘাটী

দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা বাংলাদেশের কাওমী অঙ্গনের প্রাণ কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই হাটহাজারী শিরক ও বিদাআতের বিরোদ্ধে সদা সোচ্চার। তাই বিদাতী এবং অন্য সব বাতিল পন্হীর চক্ষুশূল বলা যায় হাটহাজারীকে। বড়ই আল্লাহ ওয়ালাগণ এখলাসিয়্যাতের সাথে ভিত্তি দিয়েছিলেন বলে সবধরনের ফিতনা ফ্যাসাদ থেকে মাদ্রাসাকে আল্লাহ তা’লা হেফাজত রেখেছেন এবং আগামীতে রাখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে ফেসবুকে হাটহাজারী মাদ্রাসার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যে সমালোচনার ঝড় তোলা হচ্ছে তা মোটেও কাম্য নয়। এদের মধ্যে অনেক হাটহাজারী মাদ্রাসায় পড়ুয়া ব্যক্তিও আছেন। (আমি ইচ্ছে করে হাটহাজারীর রুহানী সন্তান বললাম না। কেন বললাম না একটু চিন্তা করে দেখুন) ফেসবুকের বর্তমান কাদা ছোঁড়াছুড়ি মোটেও ভাল লাগে না বিধায় এ বিষয়ে লেখার কোন ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু বর্তমানে বিষেয়টা নিয়ে যে লাগামহীন মন্তব্য শুরু হচ্ছে, যা কাওমী অঙ্গনের জন্যে অত্যন্ত বিপদ জনক,তাই হাটহাজারীর রুহানী সন্তান হিসেবে দু’টো কথা লেখতে বাধ্য হলাম।
সম্মানিত আলেম সমাজ এবং তালেবে ইলম ভাইগণ! হাটহাজারী মাদ্রাসার বর্তমান সমস্যা মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের বিষয়টি তারাই সমাধান করবেন। তাদের মাঝে অনেক আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গ এখনও বিদ্যমান আছেন।মাজলিসে শুরায় যারা আছেন তারাও আমাদের চেয়ে অনেক জ্ঞানী আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গ,অনেক দূরদর্শী।অপরিণামদর্শী কোন সিদ্ধান্ত তারা কখনও নিবেন বলে মনে হয় না। আল্লামা বাবু নগরী দা:বা: নিঃসন্দেহে একজন আল্লাহ ওয়ালা, বাহুরুল উলুম, অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ। কিন্তু বাবুনগরী হুজুরের মুহাব্বত দেখাতে গিয়ে বর্তমান মুহতামিম সাহেব বা শায়খ সাহেব হুজুরের সমালোচনা করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?
একজনকে বলতে শুনলাম সম্মানী মানুষ এক বার এক জায়গা থেকে চলে গেলে ওই আর ফিরে আসেন না। এটা ততটুকু যুক্তিসঙ্গত কথা? একবার এক জায়গা থেকে চলে গেলে আবার ওই জায়গায় কি আসা যায় না? সম্মানী মানুষেরা কি এমন কাজ করেন নি? তার কি নযির পৃথিবীতে নেই? আমাদের এলাকার কথা বলি উস্তাযুনাল মুকাররম, হযরত শায়খ ছত্রপুরী রহ: এক বার কোন এক কারণে লাফনাউট মাদ্রাসা থেকে আকুনী মাদ্রাসায় চলে গিয়েছিলেন। দু’ বছর পরে আবার লাফনাউট মাদ্রাসায় ফিরে আসেন। তাহলে কি বলা যাবে তিনি সম্মানী মানুষ ছিলেন না?
আরেকজনকে লেখতে দেখলাম, এখন ওয়াক্কফে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বানানো সময়ের দাবি। এ ধরনের দাবি তোলা কার স্বার্থে?
ভন্ড, বেদাতি,সালাফীসহ বাতিল পন্হীরাতো এটাই চাচ্ছে। আপনি কি তাদের হাতে সেই অস্ত্রটাই তোলে দিচ্ছেন? কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা জন্যে মাঠে নেমেছেন? এমন মন্তব্য করে কার হাত মজবুত করছেন, তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন? লেখালেখি করতে হলে একটু সেন্স রেখে লেখালেখি করতে হয়। মাথা ঠান্ডা রেখে আমাদেরকে কথা বলতে হবে।
পরিশেষে অনুরোধ করে বলছি, আপনারা বাতিল পন্হীদের হাতে অস্র তোলে দিবেন না।আপনারা ফেসবুকে যা করছেন, অনেক হয়েছে এখন দয়া করে এসব বন্ধ করুন। আপনারা যখন কাদা ছোঁড়াছুড়ি করেন, তখন আলেম ওলামাকে নিয়ে মানুষ হাসি ঠাট্রা করে। দয়া করে আমাদেরকে আর আপনারা হাসি তামাশার পাত্র বানাবেন না। দেখছেন না আজ মানুষ কাওমী মাদ্রাসা নিয়ে কিভাবে টিটকারি মারছে। আম জন সাধারণ বা আধুনিক শিক্ষিতরা কথায় কথায় দলিল দিচ্ছে হাটহাজারীর বর্তমান অবস্হা নিয়ে। আর দলিলের রেফারেন্স দিচ্ছে ফেসবুকে আপনাদের লেখা নিয়ে। এমন কাজ থেকে আমরা বিরত থাকি যাতে সমাজ কলুষিত হয়। ঠান্ডা মাথায় আমরা চিন্তা করি।
আল্লাহ আমাদেরকে সুমতি দান করুন। আ-মীন।।

 

লেখক: প্রধান মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামেয়া আহলিয়া দারুস সালাম দারুল হাদিস লাফনাউট, গোয়াইনঘাট, সিলেট।

খতিব, গোয়াইনঘাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ