প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকানঃ মুফতী আবদুল গাফফার

প্রকাশিত: ৯:২১ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকানঃ মুফতী আবদুল গাফফার

বিশ্বব্যাপী আল্লাহপ্রদত্ত ‘গজব’ করোনার কারণে অর্ধ মার্চ থেকে বন্ধ আছে প্রাইভেট মাদরাসা-স্কুলগুলো।

করোনার দুর্যোগের প্রারম্ভেই সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাগুলোর সাথে বন্ধ হয়ে যায় প্রাইভেট মাদরাসা-স্কুল ও কোচিং সেন্টারগুলোও।
আমি প্রাইভেট বলতে সেসব প্রতিষ্ঠানের কথাই বলছি, যেগুলো ভাড়ায় পরিচালিত। এসব প্রতিষ্ঠান এবং এর কর্তা-ব্যক্তিরা চরম উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করছেন। একদিকে বাসা ভাড়ার তাগিদ অন্য দিকে শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের বেতনের চাপ। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও রয়েছেন বেকায়দায়। তাদের একমাত্র সম্বল এসব প্রতিষ্ঠানের চাকুরী এবং কিছু টিউশনি। এ দুটোই এখন বন্ধ আছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু পরিচালক ছাড়া অধিকাংশ পরিচালক রয়েছেন বিপাকে। তাদের আয়ের একমাত্র উৎস ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন। এ বেতন থেকেই বাসা ভাড়া এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন প্রদান করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের নতুন করে হিসেব করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে কতগুলো প্রাইভেট মাদরাসা-স্কুল ও কোচিং সেন্টার রয়েছে, তার পরিসংখ্যান বলাটা মুশকিল, কারণ ঢাকা শহরসহ প্রত্যেকটি বিভাগ এবং জেলা শহরের অলিতে-গলিতে রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের বোর্ড থাকলেও বোর্ড এর বাইরে রয়েছে অগণিত প্রতিষ্ঠান। যৌথ ও ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানগুলো এখন হুমকির মুখে। ইতিমধ্যেই বাড়ি ভাড়া না দিতে পারায় অনেক বাড়িওয়ালা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোতে। অনেক পরিচালক বাড়িওয়ালাকে না করে দিচ্ছেন। এই দুই কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা রয়েছেন চরম সমস্যায়। না এ মুহূর্তে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে জয়েন করতে পারছেন, না পুরনো প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ বেতন পাচ্ছেন। মূলত তাদের দেখার কেউ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনি সেপ্টেম্বরের আগে প্রতিষ্ঠান না খোলার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। কিন্তু এটা বলেননি, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কী হবে। ভাড়ায় চালিত প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়া কিভাবে পরিশোধ করবে। ইতিমধ্যেই ঢাকা শহরের অনেকগুলো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা বলেছেন,
বাড়িওয়ালাদের সাথে কথা বলে সরকার তাদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাড়ি ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করে দিক, যাতে তাদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয় এবং আমরাও ক্ষতির সম্মুখীন থেকে বেঁচে যাই। কারণ বাড়িওয়ালাদের শুধু চাপ দিলে তারা আবার আগামীতে মাদরাসাগুলোকে ভাড়া নাও দিতে পারে। ঢাকা শহরে এমনি মাদরাসাগুলোকে ভাড়া দিতে বাড়িওয়ালাদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ পায়, তারপর যদি আমরা শুধু বাড়িওয়ালাদের চাপ দেই তাহলে আগামীতে বাড়িভাড়া আমাদের নাও দিতে পারে। এজন্য সরকার এর একটা সুরাহা করে দিক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ