লকডাউন বাস্তবায়েন শহরে ৫নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবীদের কর্মকাণ্ডে সন্তষ্ট সচেতন মহল

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

লকডাউন বাস্তবায়েন শহরে ৫নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবীদের কর্মকাণ্ডে সন্তষ্ট সচেতন মহল

নবী হোসেন, কক্সবাজার: কক্সবাজারে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরকে রেড জোন ঘোষণার পর ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী যুবকরা। প্রশাসনের পাশাপাশি এসব স্বেচ্ছাসেবী যুবকরা লোকজনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। যান চলাচলে বাধা দিচ্ছে। পাড়ার ভেতরে পর্যন্ত ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য কোন দোকান-পাট খুলতে দিচ্ছেনা। তাদের এই কর্মকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন মহল।

শহরের ০৫ নং ওয়ার্ডেই পৌর কাউন্সিলর এর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা প্রধান সড়কসহ পাড়ার অলি-গলিতে টহল দিচ্ছেন।

খুব জরুরি কাজ ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছেননা। মাস্ক ছাড়া কেউ বের হলে তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের অনুমতিপত্র এবং রোগী ছাড়া যান চলাচল করতে দিচ্ছেনা। এমনকি ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে পর্যন্ত দুই জনকে উঠতে দিচ্ছেনা। এছাড়া ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকান-পাট বন্ধ রাখতে বাধ্য করছে।
করোনাভাইরাসের এমন সংকটকালীন মুহুর্তে প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবকদের এই কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট পৌর এলাকার সচেতন মহল বলছেন, যারা ঘরে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের কর্মকাণ্ডে নানা মন্তব্য করছেন তারা যেন এমন কাজ না করে। এতে করে তারা নিরুৎসাহিত হবে। কারণ এসব স্বেচ্ছাসেবক নিজ নিজ এলাকার সচেতন যুবক।

তারা নিজেদের পরিবার, পাড়া ও দেশ রক্ষার্থেই স্বেচ্ছায় মাঠে নেমেছেন। সচেতন মহল আরও বলছেন তারা কোন ভুল করলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে শুধরিয়ে দিয়ে লকডাউন বাস্তবায়নে যেন সহযোগিতা করেন।

এ ব্যাপারে শহরের আলির জাহান পশ্চিম এস এম পাড়ার স্বেচ্ছাসেবক ইমরান হোসেন নবী জানান, আমরা নিজ, পরিবার, দেশ ও জাতির জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাঠে রয়েছি। সবাই আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন লকডাউন বাস্তবায়নে। সবাই ঘরে থাকবেন। নিরাপদ থাকবেন।
এবং কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর জনাব সাহাব উদ্দিন শিকদার জানান, আমার ০৫ নং ওয়ার্ডের নিজ নিজ পাড়ার পাশাপাশি প্রধান সড়কেও দায়িত্ব পালন করছি। জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ, আমাদের নিজ এলাকার লোকজনকে নিরাপদে রাখতে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমাদের এই পরিশ্রম তখনই সফল হবে যখন পৌরবাসীকে আমরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারব।
সচেতন এক পৌরবাসী মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, সেচ্ছাসেবকরা প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। সুতরাং একে অন্যের সাথে পরিচিত। এছাড়া যারা মাঠে না এসে ঘরে বসে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে নানা মন্তব্য করে তাদের কারণেই প্রথম দিকের লকডাউনের বেহাল অবস্থা ছিল। তাই সবার উচিত ঝুঁকি নিয়ে রোদে কষ্ট করে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করা এসব যুবকদের উৎসাহ দেওয়া। যাতে করে লকডাউনটি কঠোর থাকে।

তাই অনুরোধ থাকবে সবাই যেন ঘরে থেকে লকডাউন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ