আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে মানহানিকর মিথ্যাচারের প্রতিবাদে আঞ্জুমানে দাওয়াতে ইসলাহ’র সাংবাদিক সম্মেলন

প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০২০

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে মানহানিকর মিথ্যাচারের প্রতিবাদে আঞ্জুমানে দাওয়াতে ইসলাহ’র সাংবাদিক সম্মেলন

জীবন সায়াহ্নে আল্লামা শাহ আহমদ শফী। মতলববাজ চিহ্নিত মহল হযরতকে বিতর্কিত করতে মরিয়া। আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা লক্ষ্য করছি অধুনা একটি কুচক্রী মতলববাজ মহল বাংলার অবিসংবাদিত ধর্মীয় নেতা, হেফাজতে ইসলামের আমীর, হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফি. এর চরিত্রে কালিমা লেপন করতে মরিয়া। তারা দীর্ঘ ১৬ বছর আগের মীমাংসিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে অপসারিত হাফেজ কাশেম সাহেবকে ব্ল্যাকমেইলিং করে হযরতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটনা চেষ্টা করেছে। হযরতের দীর্ঘ জীবনের নিষ্কলঙ্ক অর্জনকে কলঙ্কিত করতে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই হীন ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই।

অদ্য ১০ জুন বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ঢাকার একটি সম্মেলন কক্ষে আঞ্জুমানে দাওয়াতে ইসলাহ বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে দাওয়াতে ইসলাহ ঢাকা মহানগরী সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান। পরিচালনা করেন সেক্রেটারি মুফতি আব্দুস সাত্তার। উক্ত বিবৃতিতে আরও ছিলেন- মাওলানা ইরফান বিন তোরাব আলী, মাওলানা জয়নাল আবদীন, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি কামাল উদ্দিন শিহাব কাসেমী, মুফতি ওযায়ের আমিন, মাওলানা আবু সায়েম খালেদ, মুফতি নেয়ামতুল্লাহ, মুফতি বাহরুল্লাহ নদভী, মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা মুজিবুর রহমান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান রহমানি, মুফতি মহিউদ্দীন হেলালী, মুফতি ইবরাহিম, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা আব্দুল আজিম, হাজী নাসির মাহমুদ, মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মুফতি আনিসুর রহমান, মাওলানা নাসির উদ্দিন সানারপাড়, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ উলামায়ে কেরাম। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্যে প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রতিবাদে বলা হয়,অনতিবিলম্বে হাটহাজারী হযরতের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা অভিযোগমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। আর না হয় হাটহাজারী হযরতের ভক্ত অনুরক্ত দেশ বিদেশে অবস্থানরত লক্ষ জনতা এর বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

এহেন পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে এ ধরনের মতলববাজ অপশক্তির বক্তব্যে কর্ণপাত না করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। হযরত আজ জীবন সায়ান্নে উপনীত। আমরা হযরতের আশু সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ জানাই।

আজকের সংবাদ সম্মেলন স্পষ্ট ঘোষণা করছে, সামনের দিনে যারা হাটহাজারী হযরতের ক্লিন ইমেজকে কলঙ্কিত করতে চাইবেন তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

ইদানীং হাফেজ ক্বাসেম সাহেবের ভিডিও সাক্ষাতকার নিয়ে ইউটিউব, ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ধরনের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের কথা হচ্ছে, ১৬ বছরের মীমাংসিত পুরনো ইস্যুর বিষয় আবারো কেন সাক্ষাতকার নিতে যাওয়া? আর সাক্ষাতকার নিতে আসা ব্যক্তিগণ কোন জাতীয় দৈনিক যেমন যুগান্তর, ইনকিলাব, নয়াদিগন্ত সহ অন্যান্য জাতীয় দৈনিক বা স্হানীয় কোন পত্রিকার প্রতিনিধি ছিলেন? যদি এমন কেউ না হয়ে থাকেন তাহলে তারা কে? কেনই বা তারা ‘কওমি মাদরাসার জননী দারুল উলুম হাটহাজারীর’ আভ্যন্তরীণ বিষয়ে (যা দেখার দায়িত্ব শুরা কমিটির) নির্লজ্জ সমালোচনায় মগ্ন!

অত্যন্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে সাক্ষাতকার গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ প্রিয় উস্তাদদ্বয়েরই ছাত্র। অথবা ছাত্রের প্রতিনিধি! এরপরও এমন দু:সাহস দেখিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মত এতবড় স্পর্ধা?

সাক্ষাতকারের 17 মিনিটের ভিডিও অনেকেই দেখেছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে এত বছরের পুরনো ইস্যুকে আবার জাগ্রত করার জঘন্য কাজে যারা লিপ্ত তারা কী চাচ্ছেন? প্রকৃতপক্ষে তারা কারোরই কল্যাণকামী নয়। বরং অনুভপ্রেত ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক উস্কে দিয়ে মতলব হাসিল করতে চায়। ফেসবুকে ঝড় তোলার মাধ্যমে এ সকল মতলববাজ অশুভ শক্তি উম্মুল মাদারিস দারুল উলূম হাটহাজারীকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে পুরো কওমি অঙ্গনকে বিতর্কিত ও কলংকিত করার হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত।

যেহেতু আভ্যন্তরীণ সার্বিক বিষয় দেখাশোনা করার জন্য হাটহাজারী মাদরাসাসহ প্রায় সব ক্বাওমী মাদরাসারই নিজস্ব ‘শুরা কমিটি’ আছে।

আমরা মনে করি মিডিয়ায় যারা হাটহাজারী হযরতের নগ্ন সমালোচনা উসকে দেয় তারা মুখোশ পরিহিত মতলববাজ। এ সকল মতলববাজদের মুখোশ উন্মোচন করে হাটহাজারী মাদরাসাসহ সব কওমি মাদরাসা কলংমুক্ত রাখতে আমাদের সকলকে এখনই সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

হাফেজ কাসেম ছাহেবের ভিডিও বক্তব্য এবং তৎকালীন সঠিক ইতিহাস। মাওলানা কাসেম ছাহেব ভিডিওতে বলেছেন: ‘আমাকে বাদ দিয়া ওই দুইজন (অর্থাৎ- শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং হিসাব রক্ষক মাস্টার ইউনুস) ১০ লক্ষ টাকার চেক উত্তোলন করেছে।’

অথচ ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আল্লামা শাহ আহমদ শফী দীর্ঘ একটি সফরে ছিলেন। সফর থেকে মাদরাসায় ফেরা মাত্রই মাদরাসার হিসাব রক্ষক শায়খের কাছে এসে বলেন, মাদরাসার এক লক্ষ টাকার খুব জরুরত। শায়খ সফরে থাকায় টাকা উত্তোলন করতে না পারায় মাদরাসার কাজ আটকে গেছে। তখন হিসাব রক্ষক শায়খের সামনে দস্তখতের জন্য একটি ওপেন চেক পেশ করেন। ওই চেকটিতে টাকা লেখার স্থানে শুধু অংকে এক লক্ষ টাকা লেখা ছিলো। টাকার পরিমাণ কথায় লেখা ছিলো না। আল্লামা শাহ আহমদ শফী খেয়াল না করেই চেকটিতে দস্তখত করে ফেলেন। আর দস্তখত নেয়ার পর হিসাব রক্ষক চেকটিতে এক লক্ষের জায়গায় শূন্য বাড়িয়ে দশ লক্ষ টাকা লিখে নেন। এবং হাটহাজারী মাদরাসার ব্যাংক একাউন্ট থেকে দশ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। এক লক্ষ টাকা মাদরাসায় জমা দিয়ে বাকী নয় লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। এই ছিল মূল ঘটনা।

পরবর্তীতে মাদরাসার অডিটে নয় লক্ষ টাকার গড়মিল বিষয়টি ধরা পড়ে। তখন মাদরাসার শুরা কমিটি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি শুরার সামনে রিপোর্ট পেশ করে যে, টাকা গড়মিলের ঘটনায় শুধু মাদরাসার হিসাব রক্ষকই জড়িত। আল্লামা শাহ আহমদ শফী জড়িত নন।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, তখন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ দাঁড়িয়ে যায়। এমনকি মাদরাসার শুরা সদস্যগণও দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে যান।
এক পক্ষে দাবী ছিল যে, এরকম একটি ওপেন চেকে দস্তখত করে আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম পদে বহাল থাকার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন। তাই তাঁকে মুহতামিমের পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে মাওলানা কাসেম ছাহেবকে মুহতামিম হিসেবে নিযুক্ত করা হোক।
অপর পক্ষে ছিলেন খতিব মাওলানা উবায়দুল হক রহ. আল্লামা শাহ আহমদ শফী ছাহেবসহ হাটহাজারী মাদরাসার সকল ছাত্র ও উসতাদ এবং হাটহাজারীর স্থানীয় মানুষজন।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে তখন পরিস্থিতি খুব উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি যখন খারাপের দিকে যেতে থাকে তখন পুনরায় মাদরাসার শুরা কমিটির মিটিং আহ্বান করা হয়। কিন্তু প্রথম পক্ষের মানুষজন পুনরায় শুরার মিটিং এর বিরোধিতা করেন। এমনকি মরহুম খতিব উবায়দুল হক রহ. কে গুলি করারও হুমকি দেয়া হয়, যাতে তিনি শুরার মিটিংয়ে হাজির না হোন। খতিব ছাহেব রহ.শুরার সভাপতি ছিলেন। তিনি হুমকি উপেক্ষা করে মিটিংয়ে হাজির হন।

মিটিংয়ে উদ্ভব পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে মাওলানা কাসেম ছাহেবের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় খতিব ছাহেব রহ. শুরা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে তাঁকে অব্যহতি দেয়া হয়।

কিন্তু তিনি না গিয়ে মাদরাসায় অবস্থান করায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়। এরই প্রেক্ষিতে একদিন রাতে মাদরাসার ছাত্র এবং হাটহাজারীর স্থানীয় মানুষজন তাঁর রুমের সামনে অবস্থান করে তাঁকে মাদরাসা থেকে যেতে বাধ্য করে।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, মাওলানা কাসেম ছাহেব চেকের বিষয়টির মতো এটাকেও শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উপর চাপিয়ে দিয়ে বলেছেন, চেকের বিষয়টির রেশে আল্লামা শাহ আহমদ শফী সন্ত্রাসী দিয়ে আক্রমণ করে রাতে তাঁকে মাদরাসা থেকে বের করে দেন। অথচ খতিব ছাহেব রহ. শুরা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে তাঁকে মাদরাসা থেকে অব্যহতি দেন।

শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফি. এর বিরুদ্ধে মিথ্যা বিতর্ক সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস করা হলে আমরা হযরতের ভক্ত অনুরক্ত লক্ষ জনতা যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ