প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

আল হাসানাহ রক্তদান সোসাইটি

 

ওসমানীনগর থেকেঃ সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই মানুষ বিপদে-আপদে একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। আজকের দিনে অন্যের জীবন বাঁচাতে ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান’ কর্মসূচি মানবতার নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। নিজের রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচানোর উদ্যোগ মানুষকে মানবতাবোধে সমৃদ্ধ করে তুলে। মহান আল্লাহ তায়ালা মানব সৃষ্টি করেছেন, এবং তিনি মানবদেহের জন্য রক্তকে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান করে দিয়েছেন। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য নির্ধারিত পরিমাণে রক্ত আবশ্যক।
আর যুগে যুগে আবির্ভাব হয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয় এমন কিছু মানুষ, যারা পার্থিব জীবনকে পিছে ফেলে নিজের জীবন বিসর্জন করে দেয় মানবতার তরে নিঃস্বার্থ খেদমতে। তারা বেচেঁ আছে বলে মশালের ন্যায় চতুর্দিকে আলো ছড়াচ্ছে, গোটা জাতী তাদেরকে অন্তরের মধ্যে অতি ভালবাসায় যত্নে গেথেঁ রাখে। মানুষের মাঝে এক অপার্থিব ভালোবাসা রয়েছে। যেখানে নেই কোনো চাওয়া পাওয়া, টাকার মোহ কিংবা নেই কোন ধরনের স্বার্থ। এমন একটি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম ‘রক্তদান’। আমরা সকলেই জানি যে, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কিছু স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন। ইন্টারনেটে যোগাযোগ বৃদ্ধি আর সোশ্যাল মিডিয়ার আধিপত্যের যুগে এসব সংগঠনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা মিলে রক্তদানের শতশত গ্রুপ ও পেইজ। এসব গ্রুপ-পেইজও বিভিন্নভাবে রক্তদানে সহায়তা করে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষদের জীবন রক্ষা করে যাচ্ছে। গ্রুপের সদস্যরা কোনো ধরনের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছাড়াই নিজদের রক্ত দিয়ে ভালোবাসা পরিশোধ করছেন একে অন্যের মধ্যে। পাচ্ছেন অপার্থিব সব অনুভূতি। বাংলাদেশে বিভিন্ন কারণে মানুষ রক্ত শূন্যতায় ভুগে। সঠিক সময়ে রক্ত না পেয়ে আবার অনেক মানুষের মৃত্যুও ঘটে। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকেও অনেকে সাহায্যের আবেদন করেন। সেসব রোগীদের বেশিরভাগ রক্তদান করে থাকে সেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে রক্তের যোগান দেয়া এবং রক্তদানের জন্য নিবেদিত সদস্যরা সদা সর্বদা প্রস্তুত থাকে।
রক্তদান একটি মানবিক দায়বদ্ধতা, সামাজিক অঙ্গীকার। যিনি যে পেশায়ই থাকুন না কেন সমাজের জন্যে তার কিছু না কিছু করার প্র‍য়োজন অবশ্যই আছে। ১ব্যাগ রক্তদানের মাধ্যমেও তিনি পালন করতে পারেন সামাজিক অঙ্গীকার। রক্তদান করা কল্যাণমূলক কাজের মধ্যে অন্যতম একটি কাজ।
পৃথিবীতে যত সৃষ্টি আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে মানুষ। পাশাপাশি পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে তার মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মানুষ। দুর্বল ও অসহায় মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকে শুধুমাত্র নিজের শক্তিতে নয়, বরং অন্য মানুষের সহযোগিতায়। একবার ভেবে দেখা প্রয়োজন যে, আমার/আপনার রক্তে বেঁচে উঠছে একটি অসহায় শিশু, একজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ। সে মুহূর্তে আপনার যে মানসিক তৃপ্তি, তাকে কখনোই অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব নয়। রক্তদান স্বাস্থের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্তদান করলে দেহ রক্তশূন্য হয়ে পড়ে এটি ভুল ধারণা। রক্তদানে শারীরিক কোন সমস্যা হয় না, দীর্ঘদিন ডাক্তার ও বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ থেকে শুনেছি দেখেছি বুঝেছি, যারা নিয়মিত রক্তদান করেন তারা অনেক সুস্থ থাকেন। শুধু তা-ই নয় মানসিকভাবেও তারা সুখী জীবনের অধিকারী হন। আমার বিশ্বাস এবং এটাই বাস্তবতা যে, নিয়মিত রক্তদানের ফলে সুুস্থতার এক নেয়ামত অর্জন হয়।
বলা বাহুল্য, নিরুপায় হয়ে অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা রক্ত ক্রয় করেন পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকে। আর রক্ত বিক্রেতারদের সেই রক্তে হারামের সংমিশ্রণে নিয়ামত দূর হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক! কেননা হারামে আবার নিয়ামত কিসের? তাই সেটা দূষিত রক্তের অন্তর্ভূক্ত।
তাই দূষিত রক্তের অভিশাপ থেকে মুমূর্ষু রোগীদেরকে রক্ষা করার জন্যে প্রয়োজন নিরাপদ ও ফ্রেশ রক্তের, প্রয়োজন সচেতন মানুষের স্বেচ্ছায় রক্তদান। আমাদের দেশে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্বুদ্ধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, আলহামদুলিল্লাহ।
তারই ধারাবাহিকতায় আর্তমানবতার সেবায় মুমূর্ষু রুগীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ২০১৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, রোজ শনিবার, বাদ মাগরিব, গোয়ালাবাজারস্থ এ্যাড সাইন এন্ড গিফট সেন্টারে ওসমানীনগর উপজেলার কিছু সচেতন তরুনদের উপস্থিতিতে “মানবতার কল্যাণে, এগিয়ে আসুন রক্তদানে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে “আল হাসানাহ রক্তদান সোসাইটি “নামে সেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্টালগ্ন থেকে অদ্যাবধি আজ পর্যন্ত প্রায় পাচঁ শতাধিক রোগীদের রক্তদান করে আসছে।
সোসাইটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে রক্তদানের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবায় রক্তের প্রয়োজনীয়তা পূরণে সহায়তা করে মুমূর্ষু ও অসুস্থ মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে ভুমিকা রাখা।
কর্মসূচীঃ (১) বিনামূল্যে রক্তদান করা (২) রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা (৩) সদস্য/ রক্তদাতা সংগ্রহ করা (৪) সেচ্ছায় রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে সভা/ সেমিনারের মাধ্যমে রক্তদানে আগ্রহ বাড়ানো (৫) জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা।
উক্ত সংগঠন প্রতিষ্ঠার সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠন প্রতিষ্টার উদ্যোক্তা হলেনঃ হাফিজ মাওলানা সাইম উদ্দিন, হাফিজ মাওলানা ইমাদ বিন রফিক, মাওলানা যাকারিয়া যাকি, হাফিজ মুর্শেদ চৌধুরী, মুফতি হাফিজ এনামুল হক ফুজায়েল, মাওলানা আব্দুল মুমিন, হাফিজ মাওলানা মাসউদ কামালী, মুজাক্কির আহমেদ নাজু, মাওলানা ইমরান খান, মাওলানা ফয়সল আহমদ, মাওলানা মকবুল হোসাইন, মাওলানা হিফজুর রহমান, ফররুখ আহমদ, আব্দুল আলিম সুহেল, ফরহাদ আহমেদ, মিন্টু আহমেদ, মাওলানা মাহমুদ হোসাইন, মাওলানা নুরুদ্দীন প্রমুখ।
বর্তমান অস্থায়ী কার্যালয়ঃ ওসমানী মার্কেট, দয়ামীর বাজার,ওসমানীনগর, সিলেট।
বর্তমান পরিচালকঃ হাফিজ মাওলানা সাইম উদ্দিন।
বর্তমান সহকারী পরিচালকঃ হাফিজ মাওলানা ইমাদ বিন রফিক।
রক্ত সংগ্রহ দাতাঃ হাফিজ ছায়েম আহমেদ।

লিখেছেনঃ ইমাদ বিন রফিক্ব
প্রতিষ্টাতা ও সহকারী পরিচালকঃ আল হাসানাহ রক্তদান সোসাইটি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ