মানবজিবনে তাকওয়ার গুরুত্ব ও ফযিলত

প্রকাশিত: ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

মানবজিবনে তাকওয়ার গুরুত্ব ও ফযিলত

এইচ এম মাসুদ

তাকওয়ার পরিচয়: তাকওয়া শব্দের অর্থ বিরত থাকা, ভয়া করা, নিজেকে রক্ষা করা।
ব্যবহারিক অর্থে পরহেজগারি, খোদাভীতি, আত্মশুদ্ধি ইত্যাদি বোঝায়। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপকাজ থেকে বিরত থাকাকে তাকওয়া বলে।।
এককথায় সকল প্রকার পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করাকে তাকওয়া বলা হয়।
আর যানি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাঁকে মোত্তাকি বলা হয়।

তাকওয়ার গুরুত্ব:
তাকওয়া একটি মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মানবজীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
তাকওয়া মানুষকে ইহকালীন ও পরকালীন উভয় জগতেই সম্মান-মর্যাদা ও সফলতা দান করে। ইসলামি জীবন দর্শনে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান ব্যক্তি হলেন মোত্তাকিগন।
আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
ان اکرمکم عندالله اتقٰکم،،
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।” (সূরা আল-হুজুরাত,আয়াত ১৩)

আল্লাহর নিকট তাকওতার মূল্য অধিক।
ধন-সম্পদ, শক্তি-ক্ষমতা,গাড়ি-বাড়ি থাকলেই মানুষ আল্লাহর নিকট মর্যাদা লাভ করতে পারে না। বরং যে ব্যক্তি তাকওয়া অর্জন করতে পারেন সেই আল্লাহর নিকট বেশি মর্যাদাবান।
আল্লাহ তা’য়ালা তাকে ভালোবাসেন।
স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
ان الله یحب المتقین؛
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আত্ তাওবা,আয়াত ৪)

পার্থিব জীবনে মুত্তাকিগন আল্লাহর বহু নেয়ামত লাভ করে থাকেন।
আল্লাহ তা’য়ালা মুত্তাকিনদেরকে সব সময় সাহায্য করেন।
বিপদাপদ থেকে উদ্ধার করেন ও বরকতমত রিযিক দান করেন।
আর পরকালে মুত্তাকিনদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।
আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,,
ان للمتقین مفازاً؛
অর্থ: “নিশ্চয়ই মুত্তাকিগণের জন্য রয়েছে সফলতা।” (সূরা আন্-নাবা,আয়াত ৩১)
তাকওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

اتق الله حیث ما کنت واتبع السیٸة الحسنة تمحها وخالق الناس بخلق حسنٍ۔؛
অর্থ: ” তুমি আল্লাহকে ভয় কর যেখানেই থাক না কেন এবং কোন মন্দ কাজ হয়ে তারপর নেক কাজ করে নাও তাহলে সেই নেক কাজ মন্দকে মিটিয়ে দিবে আর মানুষের সাথে উত্তম চরিত্রের মোয়ামালা কর। (আহমদ, তিরমিজি)

প্রকৃত পক্ষে তাকওয়া মানব চরিত্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বভাব।
এর মাধ্যমে মানুষ সম্মান ও সফলতা লাভ করে।

নৈতিক জীবনে তাকওয়ার প্রভাব:

নৈতিক জীবন গঠনে ও নীতি-নৈতিকতা রক্ষায় তাকওয়ার প্রভাব অনস্বীকার্য। তাকওয়া সকল সৎকাজের মূল। ইসলামি নৈতিকতার মূল ভিত্তি হলো তাকওয়া। তাকওয়া মানুষকে হারাম বর্জন করতে রবং হালাল গ্রহণ করতে প্রেরণা যোগায়। মুত্তাকি ব্যক্তি সদাসর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করে। তাকওয়া মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং সচ্চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলে। সকল সৎ ও সুন্দর অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। ফলে মুত্তাকিগন সৎ ও সুন্দর গুণ অনুশীলনে অনুপ্রাণিত হন।

অন্যদিকে যার মধ্যে তাকওয়া নেই, সে নিষ্ঠাবান ও সৎকর্মশীল হতে পারে না। সে নানা অন্যায়-অত্যাচারে লিপ্ত থাকে। নৈতিক ও মানবিক আদর্শের পরোয়া করে না। ফলে তার দ্বারা সমাজে অনৈতিকতা ও অপরাধের প্রসার ঘটে।

বস্তুত তাকওয়া হলো মহৎ চারিত্রিক গুণ।
নৈতিক চরিত্র গঠনে এর কোনো বিকল্প নেই।
তাই আসুন আমরা সবাই তাকওয়াবান হওয়ার চেষ্টা করি।

আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে মুত্তাকি হিসেবে কবুল করুন,, আমিন ইয়া রব্বে কারীম।

লেখক: ভোলা জেলা প্রতিনিধি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ