আমাদের পরিবর্তন হতে হবে/We have to change

প্রকাশিত: ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০

আব্দুল্লাহ সালমান:

সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যায় কিছু প্রতিভা, কিছু স্বপ্নিল মন আর চিন্তা-চেতনা। আমরা মনে করি যোগ্য মানুষ এবং নেতৃত্বের অভাবেই আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদের মাঝে বিজ্ঞ মস্তিষ্ক এবং যোগ্য উত্তরসূরীর আগমন ঘটে না। আসলেই কি তাই? নাকি আমাদের চিন্তার মাঝেও ঘাপলা আছে? কখনও কি ভেবে দেখেছি ব্যপারটা?
আমার ব্যক্তিগত ধারণা বলছে আমাদের চিন্তাটাই ভুল। কারণ সময়ের পালাবদলে যুগ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে একইভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং চিন্তা-চেতনার প্রখরতাও দৃষ্টিগোচর। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষ তার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটা দেশ যখন উন্নতির দিকে তখন কেন এই সোনার দেশের এত পিছুটান? দেশের পিছুটান বললে ভুল হবে। বলতে হবে সুশীল সমাজের কেন অধঃপতন?
কারণ খোঁজে বের করার চেষ্টা করছি অনেকদিন থেকেই। অবশেষে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই পরিষ্কার হল বিষয়টি।
আমার চিন্তাধারা ভুল কিভাবে শুরুতে তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সবসময়ের মতো বর্তমানেও অগণিত প্রতিভা বিচরণ করছে আমাদের সামনে। দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা ঘুরছে আমাদের আশেপাশে। তাদের কেউ নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছে না আবার কেউ পেয়েও নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ। অনেকসময় কাউকে প্রতারিত বা হিংসার বশবর্তী হয়ে বিরক্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেও দেখা গেছে। যার ফলে সমাজ পরিবর্তনশীল মানুষগুলো চলে যায় সাধারণ জীবনে আর নেতৃত্বের চেয়ারে আসীন হয় সুযোগসন্ধানী কুচক্রীমহল। যাদের দ্বারা দেশ ও সমাজ যতটুকু উন্নতির দেখা পাওয়ার কথা তারচে’ বেশি অবনতি কপালে জোটে।
চৌদ্দশ’ বছর আগে মহানবী সা. বলেছিলেন ‘পৃথিবী ধ্বংসের আকটি নিদর্শন হচ্ছে, অযোগ্য লোক নেতৃত্বে আসা’। কথাটির যথাযথ উদাহরণ এখন আমাদের সামনে।
এ উক্তির উপরে কিছু আলোকপাত জরুরী।
সমাজে যখন অযোগ্য লোকের প্রভাব বিস্তার হবে তখনই সৎ, যোগ্য এবং প্রতিভাধর মানুষের কদর ধাকবে না। এতে করে মূল্যহীন প্রতিভা চলে যাবে সাধারণ জীবন যাপনে। সমাজ উপলদ্ধি করবে যোগ্য নেতৃত্বের হাহাকার, যা উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে অযোগ্য লোকের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সমাজ যেতে বসবে রসাতলে। একদিকে উন্নতির পথে বাধা অন্যদিকে রসাতলে যেতে সহযোগিতা। দেশ ও সমাজে তখন ছেয়ে যাবে আলোর বদলে আঁধার। তখন হাজারও প্রযুক্তি আর আধুনিকতা লাভবান হওয়া তো দূরের কথা হয়ে উঠবে বিষাক্ত।
সাম্প্রতিক আমরা এই রুগে ভুগছি। প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য প্রতিভা, অগণিত চিন্তা-চেতনা, শতশত দূরদর্শী মনমানসিকতা। আমরা যদি এদের সঠিক মূল্যায়ন না করতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের আরও করুণ পরিস্থিতির মোকাবেলা হতে হবে। সঠিক নেতৃত্ব এবং যোগ্যতার মূল্যায়ন করা আমাদের জন্যে অতীব জরুরী। সুশীল সমাজ গড়তে সোনালী যুগের আলোকিত মনোভাব ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে আমরা হব উপকৃত সমাজ নেমে আসবে শান্তি ও সমৃদ্ধি। সেটা হতে পারে রাজনৈতিক অথবা সামাজিকভাবে।
লম্বাচওড়া আলোচনায় আমার উদ্দেশ্য কী ছিল সেটা একধরনের রহস্য হয়েই থাকল। তবে আলোচনাটি সব ক্ষেত্রেই অর্থবহ বলে আমার মনে হচ্ছে।
আমাদের পরিবর্তন হতে হবে, সুচিন্তার অধিকারী হতে হবে। We have to change.

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, জনকল্যাণ ২৪

সম্পাদক, সীমান্তের আহ্বান

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ